কলমি শাক এর পরিচিতি!
কলমি শাক আমাদের সবার পছন্দের একটি খাবার। এটি সাধারণত ভেজা মাটিতে অথবা পানিতে জন্মাতে দেখা যায়। বাংলাদেশের সব জায়গাতেই প্রাই এটি জন্মায়। তবে এটি মিষ্টি এলাকার বেশি জন্মে এবং অতিরিক্ত লবণে এটি মারা যায়। তো আজকে আমরা আলোচনা করব কলমি শাক নিয়ে ।
কলমি শাকে কি কি পুষ্টি উপাদান আছে? এটি খেলে কি হবে? কেন এটি বেশি জনপ্রিয়?
কলমি শাকের ডাটা গুলো ২ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। প্রতিটা ডাটার গিট থেকে শেখর বের হয়। এবং এই শাকের ডাটার ভিতরে ফাঁপা থাকায় এটি পানিতে ভেসে থাকে। কলমি শাকের পাতা অনেকটা লম্বা ত্রিকোণাকৃতির হয়েথাকে। এবং ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে । এটি ২ থেকে ৮ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে। কলমি শাকের ফুল অনেকটা ট্রাম্পেট আকৃতির মত। এটি দেখতে সাদা হলেও নিচের অংশে কিছুটা বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। এই শাকের ফুলের বীজ হয় এবং সেই বীজ থেকে পুনরায় নতুন চারা জন্মে। তাছাড়া এই শাকের প্রতিটা গিট থেকে শেখর বেরিয়ে নতুন চারা হয়।
আরো পড়ুন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/all-unknown-information-of-kamranga.html
কলমি শাকের পুষ্টিগুণ!
কলমি শাকের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন ,লৌহ ,এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ। যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি। কলমি শাকে ভিটামিন বি ১ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। যা কচু শাক, পুঁই শাক, থানকুনি থেকেও অনেক বেশি। যেটি থায়ামিন এর ঘাটতি পূরণ করে।
কলমি শাকে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তার একটি তালিকা দেওয়া হল!
ক্যালোরি ৩০ কিলো , ভিটামিন সি ৪৯ মিলিগ্রাম, আমিষ ৩.৯ গ্রাম, পানি ৮৯.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম 0. ৭১ মিলিগ্রাম, লৌহ 0.৬ গ্রাম, নাায়াসিন ১৩ মিলিগ্রাম, লোহা ০.৬ গ্রাম, শ্বেতসার ৪.৪ গ্রাম।
কলমি শাকে থাকা ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় ও দাঁতের শক্ত ও মজবুত গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য কলমি শাক অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। যেটি পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে । এই শাকের পাতা এবং ডাটায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে। যেটি আমাদের খাদ্য হজমে সহায়তা করে। পরিপাক ও বিপাক প্রিয়া সম্পাদনের বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত কলমি শাক খাওয়া উচিত। এতে কোষ্টকানিষ্ট দূর হয় শরীরকে সুস্থ রাখে। তাছাড়া কলমি শাকে থাকা ভিটামিন বি ১ স্নায়ুতন্ত্র কে সরল এবং স্বাভাবিক রাখে, এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই কলমি শাক।
কলমি শাকের আরো রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন ।জেটি থেকে আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ তৈরি হয়ে থাকে, এবং আমরা সবাই জানি ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। সুতরাং কচু শাক এর মত কলমি শাক ও খাওয়া যাবে চোখের সমস্যার জন্য । যে সব প্রস্তুতি মায়েদের শরীর দুর্বল, এবং বাচ্চার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধ খেতে দিতে পারে না সে সব মায়েদের ক্ষেত্রে কলমি শাক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ঘি এর সাথে কলমি শাকের রস মিশিয়ে সকালে ও বিকালে নিয়মিত খাওয়ালে প্রসূতি মায়েদের বুকের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও কলমি শাকে ক্যালসিয়াম এর কারনে দাঁত, মাড়ি মজবুত করে। ভিটামিন সি এর কারনে সর্দি-কাশি ও ঠান্ডার হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।শরীরে কোথাও ফোড়া হলে কলমি শাকের পাতা ও একটুি আদা ফোড়ার চারপাসে লাগালে ফোড়া গলে যায় এবং শুকিয়ে যায়। তাছাড়া পোকামাকড় মৌমাছি কামড়ালে, কলমি শাকের পাতার রস করে কামড়ানো স্থানে লাগালে তৎক্ষণাৎ যন্ত্রণা কমে যাবে। এবং কলমি শাক বেশি করে রসুন দিয়ে ভেজে গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে যে পানি আসে এমন অবস্থায় তিন সপ্তাহ খাওয়ালে পানি পরিমান কমে যাবে।
কলমি শাকের হাজারো পুষ্টিগুণ থাকলে ও এর কিছু অপকারিতা আছে ।অতিরিক্ত মাত্রায় কলমি শাক খেলে আপনার ডায়রিয়া হতে পারে এবং যাদের পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এভাবে কলমি শাক খাওয়া উচিত নয়।
আরো পড়ুন ফুলকপি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/09/2022-cauliflower-surprising-facts-2022.html
তো বন্ধুরা, আশাকরি কলমি শাক সম্পর্কে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারছেন। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখা টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। কলমি শাক সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসা বা মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

