গরমে কুল থাকতে জলখাবারে খেতে পারেন টক দই।
টক দই এর উপকারিতা বলে শেষ করা কঠিন। টক দই যেমনই একটি সুস্বাদু খাবার, তেমনি রয়েছে অনেক গুনাগুন। সারা বছর টক দই খেতে পারলে ভালো। তবে গরমের দিনে যদি টক দই আপনার প্রধান স্নাকস বানিয়েনিন তাহলে উপকার মিলবে দ্বিগুন।
গরমে ঠান্ডা থাকতে জলখাবারে খেতে পারেন টক দই
আমরা সবাই জানি দই সাধারণত দুধ চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। আর দুধ সর্বদাই উচ্চ শক্তি সম্পন্ন একটি খাবার। তবে গরমকালে এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে অনেক ভালো কাজ দেয়। বিশেষ করে ফ্রিজে রাখা দই। গরমের সময় এর তুলনা হয় না। কঠোর পরিশ্রম করে শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ করতে জলখাবারে খেতে পারেন এই টক দই। এছাড়াও টক দইতে রয়েছে আরো বেশ কিছু উপকারিতা। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক টক দইয়ের কিছু উপকারিতা।
টক দই এর উপকারিতা
টক দই যে শুধু গরমে ঠান্ডা রাখে তাই নয়। এতে রয়েছে আরও বেশ কিছু উপকারিতা। যা আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ দরকারি। নিচে কয়েকটি পয়েন্টের মাধ্যমে টক দই এর উপকারিতা গুলো আলোচনা করা হলো।
(১) বদহজমের সমস্যায় টক দই
টক দই আমাদের দেহে সাধারণত প্রবায়োটিক হিসেবে কাজ করে থাকে। অর্থাৎ টক দইয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভালো ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যা তন্ত্রের স্বাস্থের বিশেষভাবে খেয়াল রাখে। সুতরাং গরমে টক দই খেলে আপনি সহজেই বদহজমের সমস্যা এড়াতে পারবেন। যাদের গরমের সময় বেশি সমস্যা দেখা দেয় তারা তাদের প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে টক দই রাখতে পারেন।
(২) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় টক দই
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত বেশি করে টক দই খেতে হবে। কেননা এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ঘটিত রোগ এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। অন্যদিকে টক দই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়াতে হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। আর দাঁতকে শক্ত এবং মজবুত করে। সুতরাং যাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব আছে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম আছে তারা প্রতিদিন এই স্বাস্থ্যকর খাবারটি খেতে পারেন।
(৩) প্রদাহ কমাতে টক দই
গরমে সাধারণত ত্বকের উপর নানা ধরনের প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে টক দই খেলে আপনি সহজেই ত্বকের এসব সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারেন নিজেকে। কেননা প্রদাহ কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে টক দই। প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি এটি অন্যান্য এলার্জি লক্ষণগুলো কমাতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
(৪) জলখাবার হিসেবে টক দই
টক দইতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, প্রোটিন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সহ অন্যান্য অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। সুতরাং জলখাবার হিসেবে টক দই খেলে আপনার শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়া জলখাবারের টক দই খেলে আপনি সতেজতা অনুভব করতে পারবেন। তবে কোন উপায়ে টক দই খেলে আপনি বেশি উপকার পাবেন এটা আপনাকে সঠিকভাবে জানতে হবে। টক দইয়ে কোন প্রকার চিনি বা বাতাসা মিশিয়ে খাওয়াটা উচিত নয়। বরং প্রয়োজনে টক দইয়ের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে বেশি উপকার পাবেন।
আরো পড়ুন সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এই কথাগুলো প্রতিদিন একবার হলেও বলুন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/every-parent-should-say-these-words-to.html
(৫) ওজন কমাতে টক দই
টক দই খিদে কমাতে সাহায্য করে। যে কারণে নিয়মিত টক দই খেয়ে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারেন। অনেকেই আছে যারা তাদের শরীরে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত। বিভিন্ন প্রকার ওষুধ অথবা ব্যায়াম করার ফলেও তাদের ওজন কমাতে পারছে না। তাদের ক্ষেত্রে টক দই অনেক উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিনের ডায়েটে টক দই রাখার ফলে আপনিও আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারেন খুব সহজে।
(৬) তাজা ফলের সাথে টক দই
বিভিন্ন প্রকার তাজা ফলের সাথে টক দই খেতে পারেন। বিশেষ করে টক দই দিয়ে বেরি, কিউই ইত্যাদি ফল খেতে পারেন। অথবা ওটস দিয়েও টক দই খেতে পারেন। অনেকে আবার টক দই দিয়ে বায়তা বানিয়ে খায়। কিংবা টক দই দিয়ে স্মুদি বানিয়ে খেয়ে থাকে। এতেও অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে এক এক প্রকার খাবারের গুনাগুন ও পুষ্টিগুণ স্বাধের মত ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
(৭) হাইড্রেড রাখতে টক দই
গরমে যদি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো ও সতেজ রাখতে চান তবে বাটার মিল্ক বা ঘোল পানীয় পান করতে পারেন। কেননা গরমে বাটার মিল্ক পান করলে শরীর হাইড্রেট থাকে। এই পদ্ধতিতে আপনি রোগের ঝুঁকিও এড়াতে পারেন খুব সহজে। সুতরাং অতিরিক্ত গরমে যাদের শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দেয় তাদের ক্ষেত্রে এটি খুব উপকারী একটি খাবার।
Disclimer
পরিশেষে এটা বলা যায় যে গরমে টক দই এর বিকল্প আর নেই বললে চলে। শরীরকে ডিহাইডেট রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করতে টক দই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং গরমে শরিরকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিনের জলখাবারে রাখতে পারেন টক দই।
আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি এ পর্যন্তই। আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন টক দই এর উপকারিতা সম্পর্কে। ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

