রসুন কেন খাবেন? এটি খাইলে কি হয়? জেনে নিন রসুনের হাজারো গুন!
খাবারের স্বাদ বাড়াতে রসুনের বিকল্প আর কিছু নাই। এটি মসলার ভিতরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মসলা। এক কথায় বলা চলে রসুন ছাড়া খাবারের সাতটায় পাওয়া যায় না। অনেকে আছে রসুন খেতে খুবই পছন্দ করে। আবার অনেকে আছে এটি খায়না। আজকে আমরা জানবো এই রসুন সম্পর্কে।রসুন কেন খাবেন? এর উপকারিতা কি? এবং এটি খেলে কি ক্ষতি হয় ? তো দেরি না করে চলুন আমাদের মূল আলোচনায় চলে যাই!
রসুন খাওয়ার নিয়ম
বাঙালি রসুন প্রিয় মানুষ। প্রায় প্রত্যেক মানুষই কমবেশি রসুন খেয়ে থাকে। এজন্য বাংলাদেশ এর চাহিদাও অনেক বেশি।রসুন এমন একটি মসলা যেটা আপনি চাইলে সহজে খেতে পারেন না। এটি খুব শক্তিশালী তীক্ষ্ণ ঘ্রান যুক্ত একটি মসলা। এটা সবাই খেতে পারে না ।এজন্য মানুষ বিভিন্নভাবে এটি খেয়ে থাকে।
(১) কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খাওয়া
আপনি যদি রসুনকে কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খেতে পারেন তবে সব থেকে বেশি কাজ করবে। অর্থাৎ এটি সবচেয়ে ভালো পথ। কাঁচা অবস্থায় রসুন খেলে রসুনের গুন আপনার শরীরে বেশি কাজ করবে।
(২) সেদ্ধ করে খাওয়া
আপনি রসুন সেদ্ধ করে খেতে পারেন । এটাও খুব উপকারী। তবে কাঁচা অবস্থায় খেলে ঝাঁঝালো একটা স্বাদ পাবেন। কিন্তু সিদ্ধ করে খেলে সেটা আর পাওয়া যায় না।তবে রসুন সেদ্ধ করে খেলে এর অনেক পুষ্টি গুনাগুন পাওয়া যায়। অনেকে আছে যারা কাঁচা অবস্থায় রসুন খেতে পারে না। তাদের ক্ষেত্রে রসুন সেদ্ধ করে খাওয়াটাই ভালো। তবে কাচা অথবা সেদ্ধ যেভাবেই খান না কেন এর পুষ্টি উপাদান গুলো বেশিরভাগই অক্ষুন্ন থাকে।
(৩) রসুনের পানি পান করা
আপনি রসুনের কোয়া ছাড়িয়ে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানীয় পান করতে পারেন। এটি অত্যন্ত উপকারী ।এভাবে যদি আপনি খেতে না পারেন, তাহলে যেকোনো তরকারির সাথে মিসিও এটি খেতে পারেন। তবে এর ভিতরে সবথেকে কাচা অবস্থায় রসুন খাওয়া টা বেশি উপকার পাওয়া যাবে ।প্রথম অবস্থায় এটি খেতে না পারলেও একটু একটু করে খাওয়ার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন রোজা রেখে পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা https://www.sbdfoodtips.xyz/2023/03/Benefits-of-eating-ripe-bananas-during-fasting.html
রসুন খাওয়ার উপকারিতা
১. রক্ত পরিষ্কার করতে
রক্ত পরিষ্কার করতে রসুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে রসুনের কোয়া ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে নিন ।তারপর এক গ্লাস পরিমাণ পানি গরম করে নিন। তারপর এই গরম পানির ভিতর কাঁচা রসুনের এগুলো ছেড়ে দিন ।এক মিনিট অপেক্ষা করে তারপর রসুন যুক্ত পানি পান করে নিন ।এটা নিয়মিত করলে আপনার শরীরের রক্ত পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি তকও ভালো থাকবে।
২. রসুন খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব
আপনি যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানির সাথে দুই কোয়া রসুন মিশিয়ে তার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে সেবন করেন, তাহলে আপনার শরীরের মেদ কমাতে থাকবে। এবং এভাবে কন্টিনিউ করলে আপনার শরীরে ওজন অনেকটাই কমে যাবে। এবং শরীরে একটি সতেজ অনুভব আসবে।
৩. সর্দি বা জ্বর মাথা ব্যাথা নিরাময় করে।
আমাদের ভিতর অনেকেই আছে যারা কয়েকদিন পরপরই সামান্য আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জ্বর বাস সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ওষুধ। সর্দি কমাতে প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার একটু একটু করে রসুনের কোয়া আপনাকে খেতে হবে। তাহলে এটি উপশম পাওয়া যাবে।
৪. হৃদ রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে
প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোয়া রসুন পানিতে সেদ্ধ করে খেতে পারেন। তাহলে আপনার ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ কমতে থাকবে ।এছাড়াও হাই প্রেসার ও ব্লাড সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৫. জীবাণু ঘটিত রোগ নিরাময়ে রসুনের উপকারিতা
বিজ্ঞানীগণ গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে রসুনের নির্যাস মানবদেহের কৃমি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আজকাল বিভিন্ন মাউথওয়াশ তৈরি করতে রসুনের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত রসুন ব্যবহারে দাঁতের ব্যাকটেরিয়া ও বিস্তার করতে পারে না ।এটি একটি এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।
৬. ক্যান্সার প্রতিরোধক
প্রতিদিন নিয়মিত রসুন রান্না করে ও কাঁচা অবস্থায় খেলে পাকস্থলী ও কোলন ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে রসুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত রসুন খেলে ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৭. হাত পা ব্যথা বা কাঁটা তুলতে রসুনের ব্যবহার
শরীরের কোন স্থানে কেটে গেলে অথবা ব্যথা পেলে ওই স্থানে রসুন ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে অতি অল্প সময়ে আপনার ব্যথা সেরে যাবে।
কাঁচা রসুন খাওয়ার উপকারিতা!
শ্বাসকষ্ট কমাতে কৃমি নাশ করতে, এবং হজমে সহায়তা করে ।প্রসাবের সমস্যা শ্বাসনালী মুক্ত করতে, এজমা রোগের উপশম, হাইপার টেনশন, কমাতে চুল পড়া, চুল পাকানো, শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে, এবং হাড়ের বিভিন্ন রোগের জন্য রসুন মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এটিকে ফেসওয়াশ গুণসম্পন্ন একটি ওষুধ বলা যায়।
খালি পেটে রসুন খাওয়া যাবে কিনা?
অবশ্যই আপনি খালি পেটে রসুন খেতে পারবেন। আপনি খালি পেটে রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মত কাজ করে ।যক্ষা প্রতিরোধে ওষুধ হিসেবে কাজ করে এবং যকৃত মূত্রাশয় সঠিকভাবে নিজ নিজ কার্য সম্পাদন করতে পারে। এটি যক্ষ্মা ,নিউমোনিয়া ,ব্রঙ্কাইটিস ,ফুসফুসের কনজেশন, হাঁপানি ,আরো অনেক রোগ প্রতিরোধ করে। মোটকথা রসুনের রয়েছে হাজারো পুষ্টিগুণ এবং ঔষধি গুন।
রসুন খাওয়ার অপকারিতা
যাদের রসুন খাওয়ার ফলে এলার্জি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা হয় তারা অবশ্যই কাঁচা রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়াও অনেকের আছে তাদের রসুন খাওয়ার ফলে মাথায় ব্যথা ,বমি ভাব প্রাদুর্ভাব, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তাদের জন্য কাঁচা রসুন না খাওয়াই ভালো।
রসুন ভর্তা উপকারিতা!
রসুন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু। বিশেষ করে খাবারের স্বাদ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। রসুন ছাড়া এতে একদিকে যেমন মসলা হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে রয়েছে হাজারো পুষ্টি গুণ। এটি রান্নার স্বাদ বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তবে নিয়ম করে যদি এটি খাওয়া হয় তাহলে, দেহের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করবে ,দেহের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করবে, হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা দূর করবে, ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার প্রতিরোধ করবে ,যক্ষার চিকিৎসা সাহায্য করবে, ক্লোন ক্যান্সার বাধা প্রদান করবে, পিত্তথলির ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে, এছাড়াও আরো অনেক উপকার রয়েছে।
আরো পড়ুন আমলকি সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/benefits-of-amalki-amalki-all-diseased.html
Disclaimer
তো বন্ধুরা আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। আশাকরি রসুন সম্পর্কে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখা টি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।লেখাটির সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এবং নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবশ্যই অবগত থাকবেন ।
সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ সবাইকে!

