পুদিনা পাতার পরিচিতি!
আমাদের সকলের পরিচিত এই পুদিনা পাতা। এটি একটি বিশেষ পুষ্টিকর সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এটি পাওয়া যায়। হাজারো পুষ্টিগুণে ভরা এই পদিনা পাতা।
খাদ্য ও পুষ্টি প্রতিবেদক!
পুদিনা পাতা তে এক ধরনের ফ্লেভার পাওয়া যায়। বিশেষ করে যেটি আমরা চুইংগামের পেয়ে থাকি। মুখ ফ্রেশ রাখতে এই পুদিনা পাতার জুড়ি নেই। বিশেষ করে ফেসওয়াশ পেস্ট ইত্যাদিতে আমরা যে ঝাঁজাল ফ্লেভার টি পেয়ে থাকি এটি হলো পুদিনা পাতার ফ্লেভার । গরমকালে বাইরে থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি আসার পর যদি এক গ্লাস পুদিনা পাতার শরবত খাওয়া হয় তো নিমিষেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এবং সতেজ ও প্রাণবন্ত অনুভূতি পাওয়া যায়।
পুদিনা পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যেটি হূদরোগ অ্যালজাইমারস এর ও ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগের হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে। এছাড়াও এটিতে পাওয়া যায় অ্যাসেনশিয়াল অয়েল। যেটি বিভিন্নভাবে আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজ করে থাকে।
জেনে নিন পুদিনা পাতা খাওয়ার কয়েকটি উপকারিতা!
হজম শক্তি বাড়াতে!
খাবারের পর আপনার কি বদহজম হয়ে থাকে? বিভিন্ন প্রকার ওষুধ খেয়েও কোনো উপকার পাচ্ছেন না! আপনার জন্য পুদিনা পাতায় সবথেকে বেশি কাজ করবে! পুদিনা পাতাতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস থাকে। যা আমাদের শরিরে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার সুন্দর গন্ধ এবং মুখের ভিতরে থাকা লালা গ্রন্থি থেকে লালা পুদিনার মধ্যে থাকা মেন্থল আমাদের এই খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক বা এনজাইমগুলির নিঃসরণের কাজ করে থাকে। এছাড়াও এটি খাদ্যনালী সংকোচন প্রসারণ এর ক্ষমতা বাড়ায় ও বদহজম দূর করে। এ জন্যই পুদিনা পাতাকে রান্না করার জন্য বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়। খাবার পরে আপনি যদি প্রতিদিন এক কাপ করে মিন্ট টি বা পুদিনা চা খান তাহলে খুব শীঘ্রই হজমের সমস্যা থেকে উপশম পাবেন।
ত্বকের যত্নে পুদিনা পাতার বিকল্প নেই
পুদিনা পাতার রস আমাদের শরীরের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী একটি উপাদান। এটি ত্বক পরিষ্কার রাখে ও চুলকানি নানারকম ইনফেকশনের হাত থেকে আমাদের মুক্তি দেয়। পুদিনার রস অ্যান্টিইনফ্যামেটরি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এতে থাকা স্যালিসাইলিক এসিড সিম্পল ব্রণের হাত থেকে মুক্তি দেয় এবং ব্ল্যাকহেড দূর করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করে দেয়। ত্বকে ঠান্ডা রাখতে এবং আরামদায়ক সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে এবং অনুভূতি প্রযুক্ত ক্লিনসার টোনার লিপবাম ও ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনাকে দারুণ উপকার দিবে।
সর্দি কাশি
সর্দি কাশির হাত থেকে বাঁচতে পুদিনা পাতার বিকল্প নেই ।আপনি যদি সর্দি-কাশি হাত থেকে বাঁচতে চান তাহলে অবশ্যই ঘরের আঙিনায় পুদিনা পাতার চাষ করুন। আপনার যদি সর্দি ধাত থাকে তাহলে সর্দি চলাকালিন সময় গরম জলে এক ফোঁটা মিন্ট ইনফ্লেমেটরি ফেলে তাতে ভাপ নিন দেখবেন দ্রুত আপনি উপকার পাচ্ছেন। পুদিনার ঝাঁঝালো ঘ্রাণ সর্দি সময় গলা ও ফুসফুসে জমে থাকা কফ দূর করে দেয় এবং শ্বাসনালী ক্লিয়ার রাখে। পুদিনার অ্যান্টিইনফ্যামেটরি বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুন কাশির সময় শ্বাসনালী জ্বালা কমিয়ে আরাম প্রদান করে। তাছাড়া হাঁপানি রোগীদের ওষুধ হিসেবেও এই পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। খুব তাড়াতাড়ি বমি ভাব কাটাতে সাহায্য করে এছাড়াও যাদের মাথায় সমস্যা আছে তারা উপযুক্ত সময় কপালে লাগিয়ে রাখলে আরাম পাবেন।
মুখের যত্নে!
মুখের যত্নে পুদিনা পাতার গুরুত্ব অনেক বেশি ।এটি মুখের মধ্যে থাকা জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। এর ভেতরের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ও দাঁতের ক্ষয়রোধ দাতে জ্বালাপোড়া রোধ করে। জিভ পরিষ্কার রাখে এবং মাড়িকে সুস্থ রাখে । দাতের যে কোন সমস্যা দূর করার জন্য রোজ কয়েকটা পুদিনা পাতা কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন এছাড়াও তুথপেষ্ট কেনার সময় তাতে পুদিনা আছে কিনা দেখে কিনুন ।আজকাল টুথপেস্ট পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়।
পুদিনা পাতার রিফ্রেশ অনুভূতি ও সুগন্ধির জন্য এটি বেশি জনপ্রিয়ি এবং এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে অধিক মাত্রায় গ্রহণে যৌন জীবনের জন্য একটি মোটেও ভালো নয়। এটি শরীরের যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টি কারী হরমোন টেস্ট এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। যা শরীরকে ঠাণ্ডা করে দেয় এবং উত্তেজনা কমিয়ে দেয়। তাই সুগন্ধির জন্য পুদিনা পাতা দিয়ে আদা খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই, আশা করি সবার ভাল লাগছে ।এতক্ষণ লেখা টি কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং এটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। কথা হবে আগামী পোস্টে ।সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকেন।

