ঘাটকোল শাক কেন খাবেন? এর পরিচিতি পড়ুন!Why eat ghatkol vegetables? Read its introduction!

ঘাটকোল শাক এর পরিচিতি! এটি কেন খাবেন? যেনেনিন এর উপকারিতা!




বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই ঘাটকোল শাক পাওয়া যায়। এটি খুবই জনপ্রিয় একটি শাক। যেটি ঔষধি গুণে ভরপুর।বাংলাদেশের  আনাচে-কানাচে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই শাকটি বেশি পাওয়া যায়। এটি দেখতে কিছুটা কচুশাখের মত ।স্থানীয় ভাষায় একেক জায়গায় একেক রকম নাম দেওয়া হয় এই ঘাটকোল এর। তবে বেশিরভাগ অঞ্চলে এটিকে ঘাটকোল নামে পরিচিত।

ঘাটকুল এক ধরনের ভেজষ জাতীয় উদ্ভিদ ।এর ডগা পাতা সবকিছুই খাওয়া যায় এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। ঘাটকোল গাছের ডাটা ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর রং কিছুটা খইরি হয়ে থাকে । এর পাতায় সবুজ এবং তিন অংশে বিভক্ত তিনকোনা খাজ কাটা হয়ে থাকে ।ঘাটকোল এর ফুল লাল হয়ে থাকে ,দেখতে অনেকটা কলমি ফুলের মত ।এবং আগস্ট মাসের দিকে ঘাটকোল গাছে ফুল আসছে দেখা যায়।

বাংলাদেশ এটি বাণিজ্যিকভাবে বেশি চাষ না হলেও, অস্ট্রেলিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও উত্তর আফ্রিকা দেশগুলোতে এই ঘাটকুল প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। তাছাড়া বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রায় সর্বত্রই এটি জন্মাতে দেখা যায়। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক চাষ হয় ভারতে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ,টাঙ্গাইল ,সিলেট ,খুলনা ,বাগেরহাট, যশোর ,কুষ্টিয়া, মাগুরা ,নড়াইল, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা,  ঢাকা সিটিতে ও এটি বেশি পরিমাণে জন্মাতে দেখা যায়। তবে এদের ভিতর চুয়াডাঙ্গায় অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভাবে এটি বেশি জন্মাতে দেখা যায়।

ঘাটকুল শাকের উপকারিতা!

ঘাটকোল শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে। যা দেহের রোগপ্রতিরোধ সহ বিভিন্ন পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে। এবং এর রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুন। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, তার চিরঞ্জীব বনৌষধি গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন যে, এটি অতিশয় উত্তেজক ও দংর্শক, রক্তস্রাব ও বিরচন। এবং বিষাক্ত সাপের কামড়ে ঘাটকুল শাকের মূল, বেটে দংশিত স্থানে লাগালে এবং কিছুটা খাওয়ালে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল, কামড়ালে যন্ত্রণা উপশমের মহৌষধ হিসেবে এই ঘাটকুল  বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এর মূল, ক্ষতস্থানে লাগালে যন্ত্রণা থেকে উপশম পাওয়া যায়। ঘাটকোল খেলে মানুষের স্টোমাক ক্লিয়ার থাকে এবং রক্তস্রাব কমায়। পেটের ব্যথা হলে কলার সাথে এটি খেলে পেটের সকল সমস্যার সমাধান হয় ।দুর্বলতা কাটায়, হজমে সাহায্য করে, এটি হাড় ক্ষয় রোধ করে, ত্বককে প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জলতা ফিরিয়ে আনে, ক্ষুধামন্দা অরুচি ভাব কমায়, মুখে রুচি আনে। এবং শরীরে কোন ব্যাথা থাকলে সেটি উপশম ঘটে। পশু পাখি যেমন গরু মহিষ ছাগল ভেড়া গায়ে ঘাঁ হলে ঘাটকোল এর মুল বেটে পেস্ট তৈরি করে সেখানে ব্যবহার করলে অবিলম্বে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।

আরো পড়ুন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/benefits-of-eating-behera-and-medicinal.html

ঘাটকুল শাকের বেশি প্রচলন অর্থাৎ বেশি খাওয়া হয় ডাটা ।তবে এর পাতা বেটে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। ঘাটকোল শাকের ডাটা পাতাসহ রসুন কালোজিরা শুকনো মরিচ ভেজে পাতার ভর্তা করে খাওয়া হয়্। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে হাজারো ঔষধি গুন। বাংলাদেশের টাঙ্গইল অঞ্চলের মানুষ খুদের ভাতের সাথে এই শাকের ভর্তা খেতে বেশি পছন্দ করে। এ ছাড়াও অনেকে ডাটা সহ ছোট ছোট করে কেটে শুটকি মাছ বা অন্যান্য মাছ দিয়ে রান্না করে খায়। পরিশেষে বলা যায় যে ঘাটকুল শাক খুবই উপকারী একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন খাবার। যেটা আমাদের অবশ্যই খাওয়া উচিত। শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই শাকের জুড়ি মেলা ভার।

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/all-unknown-information-of-kamranga.html

বন্ধুরা আমাদের আজকের লেখাটি এখানে শেষ করছি। আশাকরি ভালোলাগছে। লেখাটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন।

ধন্যবাদ 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement