লেবু কেন খাবেন? লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন! Why eat lemon? Learn about the advantages and disadvantages of lemon!

লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন!

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/why-eat-lemon-learn-about-advantages.html

লেবু যা আমাদের সবার পরিচিত একটি ফল। এটি সারা বছরই প্রায় পাওয়া যায়। লেবু এমনই একটি ফল, যেটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। লেবুর জুস করে, চায়ের সাথে মিশিয়ে, অথবা সালাদের সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর বিকল্প আর কিছুই নেই। লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল, যার প্রতি ৫৮ গ্রামে ৩০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি থাকে। আর আমরা তো সবাই জানি ভিটামিন-সি সুস্বাস্থ্যের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি এর অভাবে শরীরে বিভিন্ন প্রকার রোগ হতে পারে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।আজকের এই লেখাটির মাধ্যমে আমরা লেবুর উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব।কি কি উপকার আছে? কেন লেবু খেতে হবে? এবং কিভাবে খেতে হবে ?অতিরিক্ত লেবু খেলে কি হবে? 

লেবুর উপকারিতা!

লেবুতে ভিটামিন সি এবং ফ্লেভোনয়েড এর একটি দুর্দান্ত উৎস ।যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, এবং আমরা সবাই জানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলি রেডিক্যাল সরিয়ে ফেলতে  বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যা শরীরের কোষের ক্ষতি করে থাকে। এই উপাদানগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিচে লেবু খাওয়ার কিছু সুবিধা আলোচনা করা হলো।

স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে লেবু!

২০১২সালের এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করেন যে সাইট্রাস ফলের ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি মহিলাদের মধ্যে ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ৭০,০০০ মহিলাদের উপর ১৪ বছরের একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা সব থেকে বেশি সাইট্রাস ফল খেয়েছেন তাদের মধ্যে অত্যন্ত ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি ১৯ শতাংশ কম ছিল। এবং এটিকে সবথেকে সাধারণ স্টক বলে গণ্য করা হয়। যখন রক্ত জমাট বাঁধা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কে বাধা সৃষ্টি করে, তখন এটি হতে পারে। ২০১৯ সালে আরেকটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, দীর্ঘমেয়াদী ফ্ল্যাভোনয়েড যুক্ত  খাবারে নিয়মিত ব্যবহার ক্যান্সারের কার্ডিও ভাসকুলার রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে সেখানে বলা হয়েছে যে ব্যক্তিরা প্রচুর ধূমপান করেন অথবা মদ্যপান নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে তাদের উপকারের সম্ভাবনা অনেক কম।

(১) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করে!

২০১৪ সালের একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এটি প্রমাণ করেছিলেন যে, যেসব মহিলারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন এবং প্রতিদিন লেবু পানি পান করেন তাদের রক্তচাপ অন্য মহিলাদের তুলনায় অনেক কম। এবং তারা এটি প্রমাণ করেছে যে নিয়মিত লেবুর পানি পান করলে শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আরো পড়ুন রোজা রেখে পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা https://www.sbdfoodtips.xyz/2023/03/Benefits-of-eating-ripe-bananas-during-fasting.html

(২) সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ত্বকের জন্য লেবুর গুরুত্ব!

ভিটামিন সি ত্বককে এর কোলাজেন সিস্টেম গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ  করে সূর্যের এক্সপোজার ধূষণ বয়স এবং বিভিন্ন কারণে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তবে বেশ কিছু গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রমান করেছেন যে, প্রাকৃতিক ভাবে ভিটামিন-সি গ্রহণ করা,  অথবা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা এই ধরনের ক্ষতি রোধে লেবু বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের জন্য আমরা অবশ্যই লেবু ব্যবহার করতে পারি।

(৩) হাঁপানি রোধে লেবুর ব্যবহার
https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/why-eat-lemon-learn-about-advantages.html

যাদের হাঁপানি রোগের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে লেবু একটি ঔষধ হিসেবে কাজ করে। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি, এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বেশি বেশি সেবন করা উচিত।

(৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

লেবুতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত হওয়ার কারণে সাধারণ জ্বর সর্দি জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। ভিটামিন-সি গ্রহণের ক্ষেত্রে সব সময় প্রাকৃতিক উপাদানটি বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। এবং এটি বিজ্ঞানীরা গবেষণায় প্রমাণিত করেছেন ।প্রাকৃতিক উপাদান গুলি যেভাবে শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ করে, অন্য কোন পরিপূরক তা কোনোভাবেই করতে পারে না । তাই শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি মেটাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশি বেশি করে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বিশেষ করে লেবু খাওয়া উচিত।

(৫) ওজন কমানো

২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা ২০ জন মানুষের উপর একটি গবেষণায় প্রমাণ করা হয়েছিল যে, তাদের মধ্যে ১০ জনকে লেবুসহ খাবার দেওয়া হয়েছিল এবং বাকি  ১০ জনকে লেবু ছাড়া খাবার দেওয়া হয়েছিল । যারা লেবুসহ খাবার খেয়ে ছিল তাদের তুলনায় যারা লেবু ছাড়া খাবার খেয়ে ছিল তাদের ওজন অনেক বেশি ছিল। তবে লেবু সেবনের ওজন হ্রাস পায় কিনা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বিমত ও রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত যেসব গবেষণা করা হয়েছে তাতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে লেবুতে ফ্যাট কমে।  যে কারণে নিয়মিত এটি সেবন করলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমে গিয়ে শরীরের ওজন কমতে শুরু করবে।

(৬) লেবু সেবনের আরো কিছু উপকারিতা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম।

হজম স্বাস্থ্য বজায় রাখতে লেবু বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি এর সাথে লেবুতে থাকে পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম ফসফরাস ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি যা শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ঘাটতি পূরণ করে, সাধারণ সর্দি কাশির জীবাণুর সাথে লড়াই করে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ব্রণের দাগ  সহ ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। লেবুর রস লিভার পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর।কারণ এটি লিভারকে বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করতে সাহায্য করে। হালকা গরম পানির সাথে লেবুর রস পান করা হলে জয়েন্ট ও পেশীর ব্যথা কমে যায় এবং দাঁতে ব্যথা ,দাঁতের জ্বালা, দাঁতের গোড়া পাকা এবং দাঁতের যেকোনো সমস্যায় গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে সেবন করলে এটি দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।

(৭) লেবুর অপকারিতা!

আমরা জানি দিন এর পিছনে যেমন রাত থাকে, তেমনি সব ভালোর পিছনে কোন না কোন খারাপ থাকে। লেবুতে ভালো গুণগুলো বেশি থাকলেও এর কিছু অপকারিতাও আছে। লেবুর রস এসিড সমৃদ্ধ এবং বিজ্ঞানীরা এটি প্রমাণ করেছেন যে,  অতিরিক্ত লেবু পানি পান করার ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। যদিও এই পানি পান করা সুবিধা এবং উপকারিতা বেশি, তবে অতিরিক্ত মাত্রায় নয়। নিয়মিত এবং পরিমাণ মতো এটি পান করতে হবে। তাহলে উপকারিতা পাওয়া যাবে। তাছাড়া কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে লেবুর পানি গরম করে খেলে বহুমূত্র রোগের সমস্যা হয়ে থাকে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন এমন কোনো গবেষণা নেই যেখানে  প্রমাণ করে অতিরিক্ত লেবুর রস আমাদের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা করতে পারে। তবে বেশি পরিমাণে পানি পান করলে এমন সমস্যা হতে পারে তার জন্য লেবু পানি দায়ী নয়। অনেকের মতে বেশি পরিমাণে লেবুর পানি সেবন করলে মাইগ্রেনের সমস্যা হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুসারে আপনি যদি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগে থাকেন তবে বেশি পরিমাণে লেবুর পানি না খাওয়াটাই ভালো । হয়তোবা এটি আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা সৃষ্টির কারণ হতে পারে, অথবা মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে সেই সমস্যাটা আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।

Disclaimer

তো বন্ধুরা আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। আশা করি সবার ভালো লাগছে। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখা টি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। লেখাটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। কথা হবে আগামী পোস্টে সেই পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন।ধন্যবাদ সবাইকে

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement