কামরাঙ্গা ফল কেন খাবেন? জেনে নিন এর উপকারিতা এবং ক্ষতিকর দিক!
কামরাঙ্গা ফল আমাদের সবার পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি ফল। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ফল খুবই জনপ্রিয় ।এই ফল কাঁচা অবস্থায় খেতে যেমন টক, এবং পাকা মিষ্টি অবস্থায়ও অনেক সুস্বাদু খেতে। প্রাচীনকাল থেকেই এই ফল খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে এই ফলের ঔষধি গুনের জন্য একটি বিশেষ পরিচিত ।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এই ফল।
কামরাঙ্গা বা তার রস কেন খাবেন?
দেখতে সুন্দর এবং লোভনীয় এই ফলটি বর্ষাকালে হয়ে থাকে। ভিটামিনের ভরপুর রসালো এই ফলটি কিছু কিছু গাছে প্রায় সারা বছরই হয়ে থাকে। বিশেষ আকৃতির এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় ফ্রেশ সবুজে ও টক হলেও পাকলে মিষ্টি হলুদ রংয়ের হয়ে থাকে। সুমিষ্ট এবং সুস্বাদু এই ফলটির পুষ্টিগুণে স্বাস্থ্যের জন্য রয়েছে খুবই উপকারী।
কামরাঙ্গা ফলের পুষ্টিগুন
(১) ভিটামিনে ভরপুর কামরাঙ্গা
এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি'র মত নানান উপকারী উপাদান। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও পুষ্টি চাহিদা পুরন করে। প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গায় আছে ৫০ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি, ০.৫ গ্রাম প্রোটিন ,০.১ গ্রাম ফ্যাট ,৫.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। এছাড়াও কামরাঙ্গায় পাওয়া যায় বেশকিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গায় ৬.১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.৪ গ্রাম খনিজ, ১.২০গ্রাম আয়রন এবং ১১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় এই কামরাঙ্গায়।
আরো পড়ুন শুক্রাণু বাড়াতে রসুনের কার্যকারিতা https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/11/Effectiveness-of-garlic-to-increase-sperm-Health-Tips.html
(২) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কামরাঙ্গা একটি আঁশযুক্ত ফল হওয়ার কারণে কোষ্ঠকানিষ্ঠ রোগের প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। যাদের পেটের সমস্যা হয় অথবা ঠিকমতো খাবার হজম হয়না তাদের ক্ষেত্রে কামরাঙ্গা খুবই উপকারী একটি ফল। কামরাঙ্গা খাওয়াতে খাবার হজম নিয়ন্ত্রিত থাকে। সেইসাথে খাবারের রুচি ও বাড়ায় এই কামরাঙ্গা । এটি খাওয়ার কারণে শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে। কোলেষ্টরল এর মাত্রা কমায় ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কামরাঙ্গাতে কিছু পরিমাণে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম থাকে যা মানুষের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কামরাঙ্গার গুরুত্ব অনেক বেশি। ডায়াবেটিসের রোগীরা কামরাঙ্গা খেলে তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে এছাড়াও কামরাঙ্গা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।
(৩) কামরাঙ্গার ক্ষতিকর দিক!
কামরাঙ্গাতে প্রচুর পরিমাণে অস্ট্রেলিক এসিড রয়েছে যেটি যথেষ্ট পরিমাণে কিডনির ক্ষতি করে। এর জন্য কামরাঙ্গা কখনোই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। কারণ যখনই কামরাঙ্গা খালি পেটে খাওয়া হয় তখন সরাসরি এটি কিডনিতে প্রভাব ফেলে। যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে কামরাঙ্গা না খাওয়াটাই ভালো। তবে খেলেও অল্পমাত্রায় এবং অন্যান্য খাবার খাওয়ার পর খেতে হবে।
Disclaimer
তো বন্ধুরা কেমন লাগলো আজকের এই পোস্টটি? আশা করি সবার ভাল লাগছে। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। লেখাটির সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের কমেন্ট পেলে আমাদের লেখার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।কথা হবে পরবর্তী পোস্টে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। নিজের খেয়াল নিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

