বরবটি শিম কেন খাবেন ?জেনে নিন অবাক করা কিছু তথ্য!
বরবটি শিম আমাদের সবার পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি সবজি। এটি সারা বছরে পাওয়া যায় হাটে বাজারে। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে হাজারো পুষ্টিগুণ। রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা ও খাওয়া যায় ।আমাদের আজকের এই পোস্টে আলোচনা করব এই বরবটি শিম সম্পর্কে।
চলুন দেরী না করে জেনে নেয়া যাক বরবটি শিমের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে!
পুষ্টিগুণ
খাদ্য উপযোগী
প্রতি ১০০ গ্রাম বরবটি সিমে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৭.৫ গ্রাম, আমিষ রয়েছে ৩.০ ,শর্করা রয়েছে ৯.০, এবং মোট খনিজ পদার্থ রয়েছে ০.৮ গ্রাম, তাছাড়া ক্যালসিয়াম রয়েছে ৩৩ মিলিগ্রাম আয়রন ৫.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ১ রয়েছে ০.১৪মিলি গ্রাম, এবং ভিটামিন বি ২ রয়েছে ০.৩০ মিলিগ্রাম তবে এতে ভিটামিন সি খুবই অল্প মাত্রায় রয়েছে এবং খাদ্যশক্তি ১৮ ক্যালোরি তবে এটা বলা অবশ্য যে বরবটি শিমের জাত ও স্থানভেদে এর পুষ্টিগুণ এর মান পরিবর্তন হতে পারে।
এছাড়াও বরবটি সিমের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিভাইরাস, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ক্যান্সার, প্রপার্টিস এবং এতে আরও রয়েছে ভিটামিন বি ১ ,বি ২, ক্লোরোফিল, আমিন, ফাইবার, ফসফরাস ও বিভিন্ন প্রকার মিনারেল ।যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী পুষ্টি উপাদান।
বরবটি সিমের উপকারিতা
এটি আয়রনের ঘাটতি মেটায়। বরবটি সিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে তারা খুবই সহজে বরবটি সিম খাওয়ার মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। এবং আয়রনের পাশাপাশি বরবটি সিমে আছে কিছু পরিমাণে ভিটামিন সি যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি আয়রন পরিশোষণ এর বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বরবটি সিম হার্টের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ডায়াবেটিস ফাইবার, এলডিএল ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে নিয়ে হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে। তাছাড়াও এটি উচ্চরক্তচাপ বুকের জ্বালাপোড়া করা শহর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে।
অস্থিসন্ধির ব্যথা কমায়
যাদের শরীরে ভিটামিন কে এর অভাব থাকে, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অস্থিসন্ধি স্থানগুলোতে তো তাদের জন্য বরবটির সিম ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা ভিটামিন কে এই সমস্যার সমাধান করে। তাছাড়া অস্টিওআর্থারাইটিস সমস্যা থেকে অস্থিসন্ধির উপকারে আসে ।এবং রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বরবটি সিম ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে ।এটি কম ক্যালোরিযুক্ত এবং অধিক ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমানোর কাজ করে থাকে। এছাড়াও বরবটিতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা শরীর থেকে দুষিত যৌগ গুলোকে বের করে দেয়। ফলে শরীরে সহজে মেদ বা চর্বি জমতে পারে না। তো যাদের শরীরে বেশি পরিমাণে ফ্যাট বা চর্বি রয়েছে তারা বেশি করে এই বরবটি সিম খেতে পারেন।
হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এই বরবটি সিম
হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং এর ভিতরে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নারীদের স্বাস্থ্য উপকারও গর্ভবতি মহিলাদের সুস্বাস্থে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বরবটি সিমে থাকা প্লাবন ওয়েট উপাদান থাকে যা এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। এবং এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস করে। বিজ্ঞানীরা এটি প্রমাণ করেছে যে এই উপাদান ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধে চমৎকার কাজ করে থাকে।
এছাড়াও আরো বহুবিধ পুষ্টিগুণে ভরা এই বরবটি সিম ।তাই যারা নিয়মিত শরীরের পরিচর্যা করে এবং পুষ্টিকর খাবার দিকে যাদের বিশেষ নজর আছে তারা অবশ্যই খাবারের মেনুতে এই বরবটি সিম রাখতে পারেন।
বন্ধুরা আমাদের আজকের পোস্টটি এই পর্যন্ত। আশা করি সবার ভালো লাগছে। লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এটি সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।

