কাজুবাদাম কেন খাবেন? আপনি জানেন কি? কাজুবাদাম খাওয়া শরীরের জন্য কতটা উপকারী?
কাজুবাদাম আমাদের সকলের পরিচিত একটি দানাদার জাতীয় খাবার। এটি বাংলাদেশ একটু কম পরিমাণে পাওয়া গেলেও, চাহিদা রয়েছে ব্যাপক পরিমাণে। তবে বাংলাদেশের থেকে ভারতে এর উৎপাদন অনেক গুণ বেশি হয়। কাজু বাদাম ছোট বড় সকলেরই খুব প্রিয় একটি খাবার। কাঁচা অথবা রান্না করে বিভিন্ন আইটেম তৈরি করেও খাওয়া যায়। এটি যেমন পুষ্টিকর একটি খাবার, তেমনি সুস্বাদু। মোটকথা কাজু বাদামের তুলনা অন্য কারোর সাথে করা যায় না।
কাজুবাদাম গাছের আদি জন্ম ব্রাজিলে হলেও, সারা বিশ্বের উষ্ণ আবহাওয়াতে এটি ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। এটি আপনি যেভাবে চাইবেন সেভাবে খেতে পারবেন। এটি রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে সেমাই ফিরনি সহ বিভিন্ন দামি দামি খাবার আইটেমে এই কাজুবাদাম ব্যবহার করা হয়। একটা কথা আপনি জানলে অবাক হবেন যে, কাজুবাদামে যে পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায় তা অন্য কোন উদ্ভিদ জাতীয় খাবারে পাওয়া যায় না। এক কথায় বলতে গেলে রান্না করা মাংসের যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে, প্রায় সমপরিমাণ প্রোটিন থাকে কাজু বাদামে। এছাড়াও এতে অনেক বেশি পরিমাণে ফাইবার থাকে । যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে শরকরার পরিমাণ অনেকাংশে কম থাকে।
সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবারের ভিতর এই কাজুবাদাম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। বিশেষ করে কাজু বাদামের পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ বীজ। কাজুবাদামের বীজ খাবার হিসেবে খাওয়া হয়। অতএব পুষ্টি উপাদান এর কারণে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা ও অনেক বেশি। এটি খাওয়ার ফলে শরীর সুস্থ থাকে হাড় শক্ত ও মজবুত হয়, শরীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, হার্টের যত্ন নেবার পাশাপাশি আরও অনেক উপকার করে থাকে।
জেনে নিন কাজুবাদাম কি কি উপকার করে থাকে!
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরা এই কাজুবাদাম, এককথায় একে এন্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস বললেও ভুল হবে না। আর আমরা তো সবাই জানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ চোখের বিভিন্ন সমস্যা ও স্মৃতিশক্তি জনিত যেকোনো সমস্যা সমাধানে প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে যাদের এই সমস্যাগুলো হয়ে থাকে তাদের পক্ষে কাজুবাদাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শরীরের ওজন কমাতেও কাজুবেদামের ঝুড়ি মেলা ভার। অন্যান্য বাদামে ক্যালোরি এবং ফ্যাট এর পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকার কারণে, শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। তবে গবেষণা তে দেখা গেছে যে কাজুবাদামে যে পরিমাণ ক্যালরি থাকে তার ৮৪ শতাংশ শরীর হজম করতে ও শুষে নিতে পারে। যে কারণে কাজু বাদামের ফ্যাট শরীরে জমাতে পারেনা। তাছাড়া এটি প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় খুদা কম লাগে এবং অনেকক্ষণ পেট ভরে রাখতে সহায়তা করে। যে কারণে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা ও থাকে না।
কাজুবাদাম হার্টের যত্ন নেয়। স্টোক ও হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ কাজ করে থাকে কাজুবাদাম । একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কাজুবাদাম নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে রক্তচাপ ও ট্রাইগিসাইড এর মাত্রা কমিয়ে আনে এবং হার্টের স্বাস্থ্য উন্নতি করে। সুতরাং হার্টের রোগীদের কাজুবাদাম খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও কাজুবাদাম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে থাকা ফাইবার রক্তের শর্করা প্রতিরোধ করতে সহায়তা প্রদান করে । যে কারণে ডায়াবেটিকস ও নিয়ন্ত্রণে থাকে । সুতরাং যাদের শরীরের ডায়াবেটিস আছে তারা নিশ্চিন্তে এই খাবারটি খেতে পারেন। এতে আপনার ডায়াবেটিসের কোন ক্ষতি করবে না বরং উপকারে আসবে। তাছাড়া এটি মানুষের শরীরের হাড় গঠনে শক্ত ও মজবুত করে। কাজুবাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ থাকার কারণে এটি হাড়ের গঠনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরো পড়ুন ঢেড়স সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/07/Know about the benefits and nutritional value of rinds.html
সাবধানতা বর্তমানে দেখা যায় সারা পৃথিবীতেই কাজুবাদাম কাঁচা অবস্থায় প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হয় ।এবং মানুষ এটিকে কাঁচা অবস্থায় খেতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু একটা কথা অবশ্যই জানা দরকার। কাজুবাদাম কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার থেকে রান্না করে খাওয়াটাই উচিত। কেননা কাঁচা অবস্থায় এটি নিরাপদ নয়। কারণ কাঁচা অবস্থায় কাজুবাদামের ভেতর উরুশিয়াল নামের একটি বিষাক্ত পদার্থ থাকে। যেটি মানুষের ত্বকের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকে। সুতরাং আমাদের এই বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। এবং সেই সাথে কাজুবাদাম কাঁচা অবস্থায় না খেয়ে রান্না করে খেতে হবে। তাহলে আর এই প্রতিক্রিয়া টি সৃষ্টি হতে পারবেনা।
তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের কাজুবাদাম সম্পর্কে প্রতিবেদন। আশা করি সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।

