খুশকির সমস্যা থেকে বাঁচার উপায়।How to get rid of dandruff problem.

 আপনার কি খুশকির সমস্যা? জেনে নিন খুশকি সমস্যা ঘরোয়া চিকিৎসা!

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/how-to-get-rid-of-dandruff-problem.html


ঋতু পরিবর্তনের ফলে ছোট বড় প্রায় সকলেরই দেখা যায় খুশকি সমস্যায় ভুগতে। আজকাল এটি একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুলের যত্ন কমবেশি সবাই নেয়। সপ্তাহে তিন থেকে চার বার শ্যাম্পু করা হয় তারপরেও চুলের খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি মেলেনা। যে কারণে তাদের মানসিকতা এবং ত্বকের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাচীন আয়ুর্বেদে এ সম্পর্কেও বেশ কিছু চিকিৎসা উল্লেখ করা আছে। আজকে আমরা ঘরোয়া পদ্ধতিতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে কয়েকটি পদ্ধতি আলোচনা করব।

চুলের খুশকি হওয়ার কারণ!

বিশেষ করে শীতকালে বাতাসের আদ্রতার অভাবের কারণে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে এটি কি হওয়ার কারণ হয়ে থাকে অত্যাধিক তেল উৎপাদনের ফলে মানুষের শরীরে বিশেষ করে মাথার ত্বকে শুষ্ক ত্বকের ছোট ছোট টুকরো হয়ে যায়। যেহেতু ত্বকের স্তর গুলি ক্রমাগত অটোমেটিক প্রতিস্থাপিত হয়ে থাকে সেহেতু কোষগুলি বাইরের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এবং মৃত বাইরে আসা কোষগুলি খুশকিতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াটি মানুষের শরীরে শুধু মাথায় নয়, অন্যান্য অংশে ও ঘটতে পারে। ত্বক শুষ্ক, মোটা ,চুলকানি এবং কিছু চরম ক্ষেত্রে লাল ও ক্ষতবিক্ষত হতে দেখা যায়। খুশকি যখন মৃদু থেকে গুরুতর হয়ে যায় তখন এটি ত্বকের কোষগুলিকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো অধিক দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে ত্বকের উপর ভারী ফ্লেক্স ক্রমাগত চুলকানি শুরু হয় এবং এগুলি আরো দৃশ্যমান হয়ে যায়। এবং এটি সকলের নজরে পড়ে।

এছাড়াও এলার্জেনবার বিরক্তি কর কারণে ত্বকে জ্বালা যা চুলকানি এবং বেদনাদায়ক ফুসকুড়ি পরিণত হয়ে থাকে। এবং এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত মাথার ত্বকেই হয়ে থাকে। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করার কারণে অনেক সময় মাথায় খুশকি সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। কদাচিৎ চুল ধোয়া খুশকি বাড়িয়ে তুলতে পারে যা অতিরিক্ত তেল ধুলোবালি ময়লা এবং ত্বকের মৃত কোষ তৈরি করে থাকে।

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/how-to-get-rid-of-dandruff-problem.html

 

খুশকি দূর করার উপায়!

খুশকি দূর করার একটি জাদুকরী উপায় হলো চা গাছের তেল এবং ভার্জিন নারকেল তেল ব্যবহার করা। একটি মিক্সিং বাটিতে ৮ থেকে ১০ ফোটা টি ট্রি অয়েলের সাথে ৫ টেবিল চামচ ভার্জিন কোকোনাট অয়েল মিশিয়ে নিন। এবং এই পুষ্টিকর মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বকে ও চুলে ৩০ মিনিটের জন্য সুন্দর করে মাখিয়ে নিন। সেই সাথে কোমল ভাবে ম্যাসাজ করে নিন যাতে প্রতিটা চুলের গোড়ায় এই তেল পৌঁছাতে পারে। তারপর এটি দূর করার জন্য একটি মৃদ হেয়ার ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। নারকেলের তেল কার্যকরীভাবে ত্বকে হাইড্রেট ও মশ্চারাইজার করার ক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সেই সাথে এটি ছত্রাকনাশক এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য একজিমার চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকে। সুতরাং এটি একটি কার্যকরী খুশকি দূর করার উপায়। আপনি নিয়মিত কয়েকদিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে আপনার খুশকি দূর হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন যেভাবে হার্টকে সুস্থ রাখবেন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/heart-healthy-diet-and-ways.html

আপেলের সিডার ভিনেগার ব্যবহার করেও চুলের খুশকি দূর করা সম্ভব। দুই থেকে তিন টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার সমান অংশ জলের সাথে একত্রিত করে মিক্স করে নিন। এবং এই মিশ্রণটি সুন্দর করে আপনার মাথায় লাগিয়ে নিন। সবসময় খেয়াল রাখবেন যেন মাথার সব জায়গায় মিশ্রণটি সমানভাবে লাগানো হয়। এরপর চার থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য রেখে দিন। তারপর হালকা হেয়ার ক্লিনার দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক স্তরের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং খুশকি অনেকাংশে কমতে শুরু করবে।

সহজলভ্য নিম পাতা ব্যবহার করেও খুশকি দূর করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ টি নিম পাতা নিয়ে ফুটন্ত জলে ভেতর সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর এদিকে  সূক্ষ্ণ পেষ্টে পিষে নিতে হবে। এবং সেই সাথে এক থেকে দুই টেবিল চামচ দই মিশিয়ে নিতে হবে। এরপরে এটি কে মাথায় ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন ।নিয়মিত যদি আপনি এই নিম পাতার ব্যবহার করেন তবে কিছুদিনের ভিতর আপনার ত্বকে খুশকি সৃষ্টিকারী ছত্রাক জীবাণু মারা যাবে এবং আপনার মাথা খুশকি মুক্ত হয়ে যাবে।

আশা করি এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার মাথার খুশকি মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়াও আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা থেকে খুশকি মুক্ত হওয়া সম্ভব। সে পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে আমরা অন্য পোস্টে আলোচনা করছি এবং ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ সবাইকে ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement