হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে কিভাবে বাঁচাবেন নিজের প্রাণ? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকে জীবন বাঁচানো কয়েকটি টিপস!
পরিবর্তিত লাইফস্টাইল এবং মানসিক চাপের কারণে আজকাল শুধু বয়স্করাই নয় তরুণরাও হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত। মরনঘাতি এই হার্ট অ্যাটাক ছাড়ছে না ছোট-বড় কাউকে। এবং সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো প্রাণ প্রতিনিয়ত। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের জীবনযাত্রায় এমন কিছু পরিবর্তন বা এমন কিছু নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে আমরা এই মারাত্মক রোগের শিকার হতে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারি। আজকে আমাদের এই প্রতিবেদনে আপনাদের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিব, যেগুলো সঠিকভাবে পালন করার মাধ্যমে আপনার হার্ট অ্যাটাকের মত মারাত্মক রোগ থেকেও নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। সেই সাথে এটিও জেনে রাখা ভালো যে, হঠাৎ কোন ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হলে তৎক্ষণাৎ কি করা উচিত? যাতে রোগীর জীবন বাঁচতে পারে!
জেনে নিন হার্টের উন্নতি করার টিপস!
হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতির প্রধান উপায় হল নিজের লাইফস্টাইলে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা। বিশেষ করে আপনি যদি ধূমপান করেন তবে প্রথমে ধূমপানকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে আমরা নিজেদের জন্য সামান্য কিছু সময়ও দিতে পারি না। যার কারণে আমাদের চারপাশের বিপজ্জনক রোগ গুলো ঘিরে ধরে। আপনি যদি একটি ব্যস্ত রুটিনে থাকেন তবে এখনই আপনাকে আপনার প্রতিদিনের রুটিন পরিবর্তন করতে হবে। নিজের জন্য অন্তত কম করে হলেও ২০ মিনিট সময় বার করুন। এবং সেই ২০ মিনিটে রিলাক্স, ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, এসব স্বাস্থ্য উপকারী কাজগুলো যোগ করুন।
আপনার প্রতিদিনের খাবারেও পরিবর্তন আনুন। আপনার প্রতিদিনের খাবারের মেনু থেকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি ,অথবা মিষ্টি এবং সোডিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। আপনার হার্টকে তরুণ এবং সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই আপনাকে ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে। এবং সেখান থেকে সুগার বাদ দিতে হবে। সোডায় প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। যা আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার ধমনিতে চাপ পড়ে এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। যার ফলস্বরূপ হার্ট এটাকে পরিণত হয়। তাই অবশ্যই শরীরে সুগারের পরিমাণ কমাতে হবে।
হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয়!
হার্ট অ্যাটাক এমনই একটা ভয়াবহ রূপ যেটা মানুষের যেকোনো অবস্থায় হয়ে থাকে। একজন সুস্থ সবল মানুষ হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাকের স্বীকার হতে পারে। তো হঠাৎ যদি কারোর হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় তবে, সে বিষয়ে কয়েকটি করণীয় আছে। যা বাঁচিয়ে দিতে পারে একজন হার্ট অ্যাটাক রোগীর জীবন।
প্রথমেই কারো হার্ট অ্যাটাক হলে আতঙ্কিত না হয়ে হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত ব্যক্তিকে একটি আরামদায়ক জায়গায় শুয়ে দিন। লক্ষ্য রাখবেন খুব বেশি নড়াচড়া অথবা পড়ে না যায়। ধীরে সুস্থে বুদ্ধিমানের মত কাজ করতে হবে। তারপর রোগীকে অ্যাসপিরিনের ট্যাবলেট চুষতে দিতে হবে। যদি সে সেই অবস্থায় থাকে। কারণ অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট চুষলে রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করবে। যে কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুহার ১৫ শতাংশ কমে আসবে ।হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃদস্পন্দন মন্থর হয়ে যেতে পারে। এবং তারপর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমত অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে বুকের চেপে শ্বাস-প্রশ্বাস শুরু করার চেষ্টা করতে হবে। তৎক্ষণাৎ হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলেও ধৈর্য ধরে বুকের ওপর হাত ধরে পাঞ্চ করুন। এতে অনেক সময় হার্টবিট ফের শুরু হয়ে যায়। একে বলা হয় সিপিআর। এ কৌশলে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
আরো পড়ুন বুক জালাপোড়া করার কারন ও ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/causes-of-heartburn-and-home-treatment.html
হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব কৃত্রিম শ্বাস দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি রোগীর বালিশ সরিয়ে তার চিবুক বাড়ান। আপনি যখন এটি করবেন তখন শ্বাসনালীর ব্লকের রাস করবে। অর্থাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাস আবার নরমাল হয়ে আসবে। আপনার হাত দিয়ে রোগির নাক চেপে ধরে আপনার মুখ দিয়ে শ্বাস দিতে শুরু করুন। কারণ নাক চেপে ধরে মুখ দিয়ে প্রদত্ত শ্বাস সরাসরি রোগীর ফুসফুসে যেতে পারে। একটি গভীর শ্বাস নিন এবং আপনার মুখ দিয়ে রুগীর মুখ বন্ধ করে শ্বাস দিন। খেয়াল রাখবেন রোগির মুখ থেকে যেন কোনভাবেই বাতাস বের না হয়। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে রোগীর ফুসফুসে বাতাস ভরে যাবে। এটি আপনি রোগীর সাথে দুই থেকে তিনবার করতে পারেন।
তবে এসব কৌশলগুলো সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে করা হয় যেখানে রোগীকে সরাসরি ডাক্তারের চিকিৎসা দেয়ার পরিস্থিতি থাকে না। তবে যে কোন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াটাই শ্রেষ্ঠ। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগী এমন একটা জায়গায় অবস্থান করে সেখানে ডাক্তারের চিকিৎসা দেয়ার কোন উপায় থাকে না। সেক্ষেত্রে এই টিপসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সবথেকে আগে যেটি সাজেস্ট করব যেকোনো হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
আশা করি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীর ঘরোয়া টিপস গুলো বুঝতে পেরেছেন। ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এবং এতক্ষণ ধরে কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

