আইসক্রিম খাওয়ার আগে জেনে নিন এর ক্ষতিকর দিকগুলো!
ছোট বড় সবার পছন্দ আইসক্রিম। গরমে আরাম পেতে এই আইসক্রিমের বিকল্প আর কিছুই নাই। বিশেষ করে শিশুদের ভেতর আইসক্রিম খাওয়ার প্রবণতা সবথেকে বেশি লক্ষ্য করা যায়। আবার অনেকেই আছে লোভনীয় এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি খাবারটি এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করেন তবুও এই চেষ্টাটাই কেমন জানি ব্যর্থ হয়ে যায় গরমের সময়। অতিরিক্ত গরমে আইসক্রিম যেন জীবন বাঁচায়। কিন্তু আসলে কি ঠিক? আইসক্রিম খেতে সুস্বাদু হলেও এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি অপকারিতা। আজকে আমরা আমাদের এই প্রতিবেদনে সেই তথ্যগুলি তুলে ধরবো।
আইসক্রিম খাওয়ার ক্ষতিকর দিক!
আমরা তো সবাই জানি আইসক্রিম একটি ঠান্ডা জাতীয় খাবার। বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত আইসক্রিম খাওয়ার প্রবণতা শরীরে বেশ কিছু ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ওজন বৃদ্ধি করা, টনসিলের সমস্যা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এছাড়াও যাদের ঠান্ডার সমস্যা আছে অর্থাৎ, একটু ঠান্ডা লাগলেই জ্বর, সর্দি, মাথা যন্ত্রণা হয়ে থাকে তাদের ক্ষেত্রে আইসক্রিম বেশ মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। বেশি মাত্রায় আইসক্রিম খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে কফ জমে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এছাড়াও আইসক্রিমে থাকে সুগার, দুধ, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এর মতো বেশ কিছু উপাদান। যা শরীরের উপকারের পাশাপাশি অনেক ক্ষতিও করে থাকে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস এর সমস্যা আছে তাদের আইসক্রিম খাওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আইসক্রিম খাওয়ার ফলে শরীরে এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে। মাথা ধরা, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আরো পড়ুন নারকেল ভর্তা রেসিপি তৈরী করার নিয়ম https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/rules-for-making-coconut-filling-recipe.html
তবে আইসক্রিমের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কিছু দিক থাকলেও এর কিছু উপকারী বৈশিষ্ট্য আছে। যেগুলো আমি আলোচনা করছি।
আইসক্রিমের উপকারী বৈশিষ্ট্য!
খুব ঠান্ডা অবস্থায় আইসক্রিম না খেলে কিন্তু আপনি এর কোন ক্ষতিকর প্রভাব না পেয়ে এর উপকারটুকু পেতে পারেন ।আইসক্রিম সাধারণত তৈরি করা হয়ে থাকে দুধ দিয়ে। অতএব আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যাসকে একদিক থেকে স্বাস্থ্যকর বলা যায়। কারণ আমরা তো সবাই জানি দুধ একটি হেলদি খাবার। এতে রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেট এর মতো অনেক দরকারি উপাদান। যা শরীরের অনেক উপকার করে থাকে। এসব উপাদান ছাড়াও আইসক্রিমের আরো বেশ কিছু উপাদান পাওয়া যায়। সেগুলো হলো ক্যালসিয়াম, জিংক, পটাশিয়াম, আয়োডিন, ফসফরাস, ভিটামিন এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর মত খনিজ পদার্থ। যা মানুষের শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করে। সেই সাথে আইসক্রিমের এইসব উপাদান উপস্থিতির কারণে শরীরের হাড়ও মজবুত রাখে। পাশাপাশি শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
এছাড়াও আইসক্রিমের আরেকটি উপাদান লক্ষ্য করা যায়। যেটি মানুষের হ্যাপি হরমোন বা সেরোটোনিন নিঃসরণের গতিকে বাড়িয়ে তোলে দ্বিগুণ গতিতে। আর সেটি হল আইসক্রিমে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের এক ধরনের উপাদান। তাই একথা বলা যায় জীবনে সুখী অনুভব করিয়ে নিতে একটু আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যাস করা যেতেই পারে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম কিনতে পাওয়া যায়। চকবার, কোন, ভ্যানিলা, ইত্যাদি অনেক প্রকারের আইসক্রিম পাওয়া যায়। এগুলো খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর। এছাড়াও ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন বিভিন্ন প্রকারের আইসক্রিম এবং উপভোগ করতে পারেন এর সুস্বাদু স্বাদ।
আজকের প্রতিবেদনটা এ পর্যন্তই। আশা করি আইসক্রিমের ক্ষতিকর দিক এবং উপকারিতা সম্পর্কে একটু হলেও জানতে পারছেন। ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

