গুগল ড্রাইভ কি নিরাপদ,গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম,গুগল ড্রাইভ ডাউনলোড,Google drive কি ধরনের স্টোরেজ
মোবাইলের পার্সোনাল ছবি অথবা ডকুমেন্ট প্রত্যেকেরই খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। আর এটি সংরক্ষন করার জন্য প্রয়োজন পড়ে দীর্ঘস্থায়ী কোন মাধ্যমের। আমরা সাধারণত মেমোরি কার্ড, পেন ড্রাইভ, কম্পিউটার অথবা ফেসবুকে সংরক্ষণ করে থাকি। কিন্তু আসলে এগুলো কি সত্যিই নিরাপদ? মেমোরি কার্ড পেন ড্রাইভ অথবা কম্পিউটার যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর যদি একবার এগুলা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এতে থাকা ছবি অথবা ডকুমেন্ট আর কোনভাবেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। বাকি রইল ফেসবুক! ফেসবুক ও একি রকম। যদি কোনো ভাবে ফেসবুক একাউন্ট নষ্ট হয়ে যায় অথবা পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়ে যায় তাহলেই শেষ। আপনার প্রিয় মানুষের ছবি বা পার্সোনাল ডাটা সবকিছুই হাতছাড়া হয়ে যাবে। এরকম সমস্যায় আমরা প্রত্যেকেই পড়ে থাকি। কিন্তু আজকে আমাদের এই পৌষ্টে আপনাদেরকে জানাবো কিভাবে আপনিও সারা জীবনের জন্য নিশ্চিত ভাবে মোবাইলের ছবি অথবা ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে পারেন সেই সম্পর্কে।
যেভাবে আপনি মোবাইলের ছবি অথবা ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করবেন
1.গুগোল ড্রাইভ/Google Drive
বর্তমানে স্মার্টফোন সকলেই ব্যবহার করে। আর সাধারণত সবাই মোবাইলের ছবি অথবা ডাটা মেমোরি কার্ডে অথবা মোবাইলে সংরক্ষণ করে থাকে। গুগোল ড্রাইভ এর কথা অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা জানেনা। কিন্তু খুশির কথা হল গুগল কোম্পানি জিমেইল এর মাধ্যমে আমাদের একটা স্পেস দিয়ে থাকে। যেখানে আমরা নিশ্চিন্তে আমাদের ছবি অথবা ডকুমেন্টগুলো সংরক্ষণ করতে পারি। এটিকে বলা হয় গুগোল ড্রাইভ এবং এটি প্রত্যেকটা জিমেইল একাউন্ট এর সাথে সংযুক্ত করা থাকে। অর্থাৎ আপনার যদি একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে আপনি এই সুবিধাটা পেতে পারেন। এখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় মূল্যবান ডকুমেন্টগুলো জমা রাখতে পারেন সারা জীবনের জন্য। যতদিন আপনি এটি ডিলিট না করবেন ততদিন পর্যন্ত এটি সংরক্ষণ হয়ে থাকবে। এখানে মেমোরি কার্ড পেন ড্রাইভ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোন ভয় নেই। শুধুমাত্র আপনার জিমেইল এর পাসওয়ার্ড মনে থাকলেই হবে। ধরে নিতে পারেন আপনার জিমেইল এর পাসওয়ার্ড হল এর মূল চাবি। আর এটি যতদিন পর্যন্ত আপনি না বলবেন ততদিন পর্যন্ত আপনার ডকুমেন্টগুলো নিশ্চিন্তে নিরাপদ থাকবে।
2.যেভাবে সংরক্ষণ করবেন My Drive
গুগোল ড্রাইভ সাধারণত জিমেইল অ্যাকাউন্টের সাথে থাকে সুতরাং গুগল ড্রাইভে কোনকিছু সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই আগে আপনার একটি জিমেইল একাউন্টের প্রয়োজন হবে। প্রথমে যেকোনো একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট আপনার ফোনে অথবা কম্পিউটারে লগইন করে নিন। যেটি আপনার ব্যক্তিগত জিমেইল লগইন করার পর ফোনের অ্যাপস এর ভিতরে গিয়ে সার্চ করুন গুগোল ড্রাইভ লিখে। দেখবেন একটি অ্যাপস চলে আসছে। আর যদি এটি ফোনে না থেকে থাকে তবে এখনই প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিতে পারেন। গুগোল ড্রাইভ এর ভিতর প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন কয়েকটি অপশন। ফোল্ডার, আপলোড, শেয়ার, ফাইল। তো আপনাকে এখানে ফোল্ডারের উপর ক্লিক করে নতুন একটি ফোল্ডার তৈরি করতে হবে। এবং ফোল্ডার এর ভিতরে গিয়ে আপলোড করতে হবে আপনার সকল গুরুত্বপূর্ণ ছবি এবং ডকুমেন্ট গুলি। যা আপনি সংরক্ষণ করতে চান।
3. কত জিবি ডাটা সংরক্ষণ করতে পারবো?
তবে এটা মনে রাখতে হবে আপনার প্রতিটা জিমেইলে শুধুমাত্র 15 জিবি ডেটা সংরক্ষণ করতে পারবেন। কারন গুগল কোম্পানি আপনার প্রতিটা ড্রাইভে 15 জিবি করে স্পেস দিয়ে থাকে। সুতরাং আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা যদি 15 জিবির বেশি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনাকে দ্বিতীয় কোন জিমেইল ব্যবহার করতে হবে। এভাবে আপনি দুইটা অথবা তিনটা জিমেইল ব্যবহার করে 30 থেকে 45 জিবি অথবা তারও বেশি ডাটা সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে সতর্কতাঃ হলো প্রত্যেকটা জিমেইল এর পাসওয়ার্ড আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। যাতে করে পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি আপনার জিমেইল লগইন করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
শেষ কথা
সর্বোপরি শেষে আমরা এটা বলতে পারি একটু কষ্ট করলেই কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটাগুলো সারা জীবনের জন্য সংরক্ষণ করতে পারি। এখানে আপনার ডেটা চুরি হয়ে যাওয়া, নষ্ট হওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়ার কোন ভয় থাকে না। যতদিন পর্যন্ত গুগোল কম্পানি থাকবে ইন্টারনেট থাকবে ততদিন পর্যন্ত আপনার এই ডাটাগুলো থাকবে। যার জন্য আপনাকে কোন জরিমানা গুনতে হবে না। সুতরাং আমার মতে গুগল ড্রাইভে সব থেকে উপযুক্ত ডাটা সংরক্ষণ করার জন্য। এবং এর আরো একটি ভালো সুবিধা হল এটি আপনি ছাড়া আর কেউ দেখতে পারবে না। যদি কিনা আপনি আপনার ডাটা কোন লিংক কাউকে শেয়ার না করেন। এবং আপনার জিমেইল এর পাসওয়ার্ড যদি চুরি না হয়ে যায়। তাহলে এটি সারা জীবনের জন্য সেভ থাকবে।
তো বন্ধুরা কেমন লাগলো আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি। আশা করি গুগোল ড্রাইভ সম্পর্কে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন। ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। সেইসাথে বুঝতে কোথাও সমস্যা হলে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

