স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যে খাবারগুলো খাবেন।
মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হল তার স্মৃতিশক্তি বিকাশ ঘটানো। আমরা সবাই মানুষ, কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেরই জীবন আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। আর এটি করা হয় আমাদের বুদ্ধিমত্তা অথবা স্মৃতিশক্তি বিকাশের ওপর নির্ভর করে। যাদের স্মৃতিশক্তি অথবা বুদ্ধিমত্তা বেশি তাদের পজিশন থাকে সবথেকে উপরে। এবং এভাবে আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়ে থাকে প্রতিটা মানুষকে। আচ্ছা আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি একটা মানুষের মস্তিষ্ক কতটা ব্যবহার করা যায়। অথবা এটা কিসের উপর নির্ভর করে। তবে এই মস্তিষ্কের ব্যবহার অথবা স্মৃতি শক্তির বিকাশ অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে হয়ে থাকে। তবে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে শুধুমাত্র বিজ্ঞানী আইনস্টাইন যারা এখনো পর্যন্ত আর কেউ সেভাবে তার ব্রেনের শতকরা 10 ভাগের বেশি কাজে লাগাতে পারেনি।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো আপনিও যদি চান তবে আপনার ব্রেনের 10 ভাগের বেশি শতাংশ কাজে লাগাতে পারেন। এটা ভাবতে অনেকটা অস্বাভাবিক মনে হলেও এটি সম্ভব। অনেকে মনে করতে পারেন মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন যেখানে তার ব্রেন এর শতকরা 10 ভাগ এর বেশি কাজে লাগাতে পারেনি সেখানে একজন সাধারন মানুষ কিভাবে তার ব্রেন কে 10 ভাগের বেশি কাজে লাগাবে। অথবা আইনস্টাইন এর থেকেও বেশি স্মৃতি শক্তির বিকাশ ঘটাতে পারে। তবে আপনারা জেনে খুশি হবেন যে একাধিক গবেষণার পর এই বিষয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে বেশ কয়েকটি খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে মস্তিষ্কের অ্যাক্টিভ জোন 10 ভাগের থেকেও বেশি ক্রমাগত বাড়তে শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্রেনের স্মৃতিশক্তি বিকাশ ঘটবে। আর যার ফলস্বরূপ আপনার বুদ্ধি বাড়তে থাকবে।
তবে শুধু তাই নয় সেইসঙ্গে স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে এই খাবারগুলো খাওয়ার মাধ্যমে। তাই আমরা আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো সেই খাবারগুলো সম্পর্কে। যে খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার ফলে আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়তে শুরু করবে। এবং বেশি বুদ্ধিমান হতে পারেন।
বেশি বুদ্ধিমান হতে যে খাবারগুলো খেতে হবে
1 কফিঃ
কফির কথা শুনে অনেকেই রীতিমত অবাক হতে পারেন। শুনতে আজব লাগলেও এই কথাটির মধ্যে কোন ভুল নাই। নিয়মিত দুই কাপ কফি খাওয়া শুরু করলে মানুষের মস্তিষ্কের শট মেমোরির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। আর সেই সাথে সাথেই alzheimer's পারকিনসন সহ আরো অনেক মস্তিষ্ক ঘটিত রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমতে শুরু করে। নিয়মিত কফি খাওয়ার ফলে বুদ্ধির ধারণাও বাড়তে শুরু করে। তবে এ ব্যাপারে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে ।তা হলো দিনে কিন্তু 2 কাপ এর বেশি কফি খাওয়া যাবে না। সর্বোচ্চ দুইবার পর্যন্ত খেতে পারেন। কেননা বেশি মাত্রায় কফি খাওয়ার ফলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২ আখরোটঃ
আখরোট আমরা সবাই কমবেশি খেয়ে থাকি। তবে মজার বিষয় হলো নিয়মিত আখরোট খাওয়ার ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় ।কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, কপার ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার যা বিশেষ ভাবে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে থাকে। সেইসাথে এটি খাওয়ার ফলে দেহের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। এ কারণে এটি খাওয়ার ফলে সবদিক থেকেই মস্তিষ্কের পুষ্টি সাধন করে।
আরো পড়ুন এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝবেন শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/if-these-symptoms-appear-you-will-know.html
৩ জাম
ছোট ছোট কালো রংয়ের মিষ্টি জাম খেতে কে না পছন্দ করে। জাম অত্যন্ত উপকারী এবং হাজারো পুষ্টিগুণে ভরা একটি ফল। যা ছোট বড় সবাই খেতে পছন্দ করে। নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার স্বার্থে শরীরের আরো নানাবিধ উপকার করে থাকে। কেননা এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ব্রেনের অন্দরের প্রদাহ কামনার মধ্য দিয়েও নানাবিধ রেনস কে দূরে অপসারণ করতে বিশেষ ভাবে কাজ করে থাকে। বিশেষ করে যাদের পরিবারে alzheimer's অথবা ডিমেনশিয়ার এর মতো ভয়ানক মস্তিষ্ক রোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছে তারা যদি প্রতিদিন নিয়মিত জাম খেতে পারেন তাহলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও জামে আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে শরীরে রক্ত পরিষ্কার করে। এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। সুতরাং মস্তিষ্কের বিকাশ সাধন করতে এবং শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করতে অবশ্যই বেশি বেশি জাম খাওয়া যেতে পারে।
৪ অলিভ অয়েলঃ
আমাদের দেশে সাধারণত বেশি অলিভ অয়েল ব্যবহার করা হয় না। তবে যদি নিয়মিত অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করা হয় তাহলে এটি খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কে মিলতে পারে দারুন উপকার। আসলে এই তেলটিতে রয়েছে পলি ফিনাল নামের এক ধরনের উপাদান। যা মস্তিষ্কের ব্রেন সেল কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে যখন একাধিক কেস স্টাডি চলাকালীন সময় মানুষের এই উপাদানটি সেলের কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ফলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
৫ ব্রোকলিঃ
ব্রোকলিতে রয়েছে সালফারাফেন নামক এক ধরনের পুষ্টি উপাদান। যা শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে দিতে সহায়তা করে। সুতরাং এই সবজিটি খাওয়া মাত্রই শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো বেরিয়ে যেতে শুরু করে। যার ফলে ব্রেন ছেলের কোন ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সুতরাং মস্তিষ্কের বিকাশ সাধনে এবং ব্রেন সেলগুলোর সুরক্ষায় প্রচুর পরিমাণে ব্রোকলি সবজি খাওয়া উচিত।
৬ নারকেল তেলঃ
নারকেল তেল সাধারণত চুলের পরিচর্যা কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে দক্ষিণ ভারতের কিছু সংখ্যক লোক আছে যারা
নারকেল তেল দিয়ে রান্নার কাজ করে থাকে। নারকেল তেল দিয়ে রান্না করা খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে
মস্তিষ্কের বিকাশ সাধনের এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা নারকেল তেলে উপস্থিত নিউরনের ক্ষমতা বাড়িয়ে
তোলে। সেই সঙ্গে শরীরের উপস্থিত নানা বিধ ক্ষতিকর উপাদান নিরসনে সহায়তা করে। সুতরাং সর্বোপরি আমরা বলতে পারি
নারকেল তেল মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
শেষ কথাঃ
তো বন্ধুরা আশাকরি আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। এমনও কিছু খাবার আছে যা
নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে মানুষের স্মৃতি শক্তির বিকাশ সাধন হয় সেই সাথে বুদ্ধি ও বাড়তে থাকে। সুতরাং মানুষের বুদ্ধির
বিকাশে এই খাবারগুলি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে।

