মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার লক্ষণগুলো এবং কারণগুলো জেনে নিন
শরীরের সৌন্দর্যের প্রধান দুটি অংশ হলো মুখ এবং দাঁত। সুস্থ দাঁত মানেই সুন্দর হাসি। প্রচলিত এই কথার সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। তবে সুন্দর হাসির জন্য যে দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরী এটা আমরা কয়জনই বা মেনে চলি! মুখ এবং দাঁত এর স্বাস্থ্য ভালো রাখা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর এটি প্রয়োজনীয় কিছু স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাক ভাবে মেনে চলার কারণে অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তবে আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওরাল প্রবলেম কিওর করা হয়। এবং এগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা গেলে তা পরবর্তীতে আর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাঁতের যেসব কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার ভিতরে অন্যতম হলো ডেন্টাল ক্যারিজ অথবা দাঁতের ক্ষয়, পেরিওডেন্টাল বা মাড়ি জনিত বিভিন্ন রোগ, ওরো ডেন্টাল ট্রমা বা দুর্ঘটনা জনিত। এসব কারনে দাঁতে বিভিন্ন রোগ বা ওরাল ক্যান্সার ইত্যাদি হয়ে থাকে।
গ্লোবাল ওরাল হেলথ স্টাটাস এর রিপোর্ট ২০২২ অনুযায়ী দেখতে পাওয়া যায়। সারা বিশ্বে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মানুষ মুখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এবং এর ভিতর চারজনের মধ্যে তিনজনই মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে। এবং এই তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী আনুমানিক দুই বিলিয়ন মানুষ স্থায়ীভাবে দাঁতের ক্ষয়জনিত রোগে ভুগতেছেন। এবং ৫১৪ মিলিয়ন শিশু প্রাথমিক পর্যায়ে দাঁতের ক্যারিজ বা ক্ষয় রোগটিতে ভুগছে। আর এই সমস্যাটি যাতে আর বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে জনসচেতনতা মেনে চলাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ ও দাঁত খারাপ হওয়ার কিছু লক্ষণ আলোচনা করা হলো
শরীরের যেকোনো অংশে কোন সমস্যা হলে প্রাথমিক পর্যায়ে তার কিছু লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় অথবা অনুভব করা যায়। তেমনি মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার ও কিছু লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে মুখ ও দাঁতের সমস্যার কিছু সাধারন লক্ষণ দেখা দিলেই অবশ্যই একজন ডেন্টিসএর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসা নিতে হবে। তবে আমরা সাধারণত উপসর্গ দেখা দিলেই তারপর চিকিৎসার কথা ভাবি। তবে ভালো হয় যদি উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হয়।
যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে
১) ব্রাশ করার সময় অথবা কোন খাবার খাওয়ার সময় যদি দাঁতের ফাঁক অথবা মাটি থেকে রক্ত বের হয়।
২) দাঁতের মাড়িজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে।
৩) কিছু সময় অন্তর অন্তর অথবা মাঝে মাঝে দাতে জ্বালা অথবা ব্যথা হলে।
৪) গরম, ঠান্ডা, টক বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার পর অথবা তরল জাতীয় খাবার পান করার সময় দাঁত শিরশির করলে।
৫) মাড়িতে অথবা চোয়ালে ব্যথা হলে।
৬) অথবা দুর্ঘটনার কারণে দাঁত ভেঙে গেলে।
উপরে আলোচনা করা প্রত্যেকটি সমস্যার কোনটি যদি আপনার সাথে হয়ে থাকে তবে অবশ্যই ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। তবে এসব সমস্যা প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিতে হবে। কেননা নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং দাঁতের যত্ন নেওয়ার ফলে এমন অনেক সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
যে যে কারণে মুখ ও দাঁতের সমস্যা হয়ে থাকে
মুখ অথবা দাঁতের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ কারণ দেখা যায়। যা বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী হয়ে থাকে কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলোঃ-
১) ভুল নিয়মে ব্রাশ করার অভ্যাসের কারণে মুখে ও দাঁতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। আর এই ব্যাকটেরিয়ায় মুখের অথবা দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। তাই সব সময় সঠিক নিয়মে এবং অনেকটা সময় ধরে দাঁত ব্রাশ করাটা আবশ্যক।
২) বেশি চিনি যুক্ত খাবার খাওয়া বা পান করার কারণে হতে পারে দাতে বিভিন্ন সমস্যা। বিশেষ করে এটি খাওয়ার ফলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত সৃষ্টি হয়। এবং এটি দাঁতের উপর ক্লাব তৈরি করে থাকে। যা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়িজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং বেশি চিনিযুক্ত অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
৩) পান সুপারি অথবা ধূমপানের কারণেও হতে পারে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি। সুতরাং ধূমপান অথবা পান সুপারির খাওয়ার নেশা থাকলে অবশ্যই সেটি বর্জন করতে হবে।
৪) নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ থেকে যদি এড়িয়ে চলেন তবে ছোটখাটো দাঁতের সমস্যা থেকে বড় আকার দেখা দিতে পারে। সুতরাং ছোটখাটো যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডেন্টাল চেকআপ করাতে হবে।
আরো পড়ুন হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনে যে খাবারগুলো https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/foods-that-control-high-pressure.html
এগুলো মূলত মুখ এবং দাঁতের সমস্যার কিছু সাধারন কারণ। এছাড়াও আরো অনেক কারণ রয়েছে যা ছয় মাস অথবা এক বছর পর পর একজন ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে দাঁতের ছোটখাটো সমস্যাগুলো কথা জানা যায় অনেক সহজে। অতএব দাঁতের সুস্থতার জন্য অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত দাঁত চেকআপ করাতে হবে।
মুখ ও দাঁতের সমস্যার বিভিন্ন প্রকারভেদ
১) ক্যাভিটি
দাঁতের শক্ত জায়গাতে ছোট ছোট গর্ত হয় এগুলোকে ক্যাভিটি বলা হয়ে থাকে। অনেকেই একে দাঁতের পোকা বলে চেনেন। এই রোগকে ক্যারিজ বা দাঁতের ক্ষয় রোগ ও বলা হয় থাকে। যখন দাঁতের উপর ব্যাকটেরিয়া খাদ্য ও অ্যাসিড এর আবরণ তৈরি করে তখন ক্যারেজের উৎপত্তি হয়ে থাকে। এবং সময়ের সাথে সাথে যদি এর প্রতিকার না করা যায় তবে এই রোগটি দাঁতের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
২) মারি জনিত রোগ ডিনজিভাইটিস
ডিনজিভাইটিস মাড়ির একটি বিশেষ রোগ। এটি সাধারণত খারাপ ব্রাসিং ও ফ্লাশ করার অভ্যাসের কারণে দাঁতে যে প্লাক তৈরি হয়ে থাকে সেখান থেকেই হয়ে থাকে। ব্রাশ বা ফ্লাশ করার সময় মাড়ির প্রদাহের কারণে মাড়িতে ক্ষত অথবা ফুলে যেতে পারে এবং যে কারণে রক্তপাত হয়ে থাকে। এরকম অবস্থায় মাড়িতে প্রচুর ব্যথা সৃষ্টি হয়ে থাকে।
৩) দাঁত ভেঙ্গে যাওয়া বা ক্রেক টুথ
মুখে আঘাত জনিত কারণে, অথবা দুর্ঘটনার কারণে, বা শক্ত খাবার চিবানোর কারণও দাঁত ভেঙে যেতে পারে। এবং ভাঙা দাঁতের ভেতরে অবস্থিত দন্ত-মজ্জায় পচন ধরে ধীরে ধীরে সংক্রমিত হয়ে পাশের দাঁতেও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ভাঙ্গা দাঁতের গর্তে বা ফাঁকা স্থানে খাদ্য কনা ঢুকে ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। ভাঙা দাঁতের ধারালো অংশের জিহ্বার ঘর্ষণে বা গালে নরম অংশে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এই ক্ষত কিছুদিন পর ভালো হয়ে গেল ও আবার আঘাতের ফলে ক্ষত জেগে উঠতে পারে। এবং এখান থেকে ক্যান্সার হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে অনেকাংশে। সুতরাং দাঁত ভেঙে গেলে অবশ্যই ডেন্টিষ্টদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।
পরিশেষে এই কথা বলা যায় যে, মানুষের সৌন্দর্যের অনেকটাই ফুটে ওঠে সুন্দর হাসিতে। কিন্তু দাঁত যদি সুন্দর না থাকে তাহলে প্রাণ খুলে হাসাও যায় না। যে কারণে মানুষের কনফিডেন্স লেভেলও অনেকটাই লো থাকে। অন্যদিকে দাঁত যদি সুন্দর থাকে হাসিও সুন্দর হবে। আর এর জন্য মুখ ও্ দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিতে হবে। ডেন্টিস্টদের কাছ থেকে নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করাতে হবে ।

