লাউ শাক কেন খাবেন ? এটি খেলে কি হয়? জেনে নিন লাউশাক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা!
লাউশাক আমাদের দেশের খুবই জনপ্রিয় একটি শাক। লাউশাক পছন্দ করে না এমন লোক খুবই কমই আছে। ছোট বড় সবারই পছন্দ এই লাউ শাক। বাংলাদেশের সর্বত্রই লাউশাক দেখতে পাওয়া যায়, তবে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটির চাষ বেশি পরিমাণে করা হয়। লাউশাক খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। একটি খাবারে রয়েছে হাজারো পুষ্টিগুণে ভরা এবং এটি খাওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা অথবা পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে।
লাউ শাক সারা বছরই পাওয়া যায়। তবে শীতের মৌসুমী এটি বেশি পরিমাণে চাষ করা হয়। শুধু ফলনই বেশি হয় না, শীতের মৌসুমে লাউ শাক খেতে অনেক সুস্বাদু লাগে। লাউ শাক খাওয়ার ফলে বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা পুরন তো হবেই সেই সাথে রয়েছে স্বাস্থ্যেরও নানাবিধ উপকারিতা। যা আপনার শরীরকে সুস্থ সবল ও সতেজ রাখতে দারুন ভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
এক নজরে লাউ শাকের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নি!
লাউ শাকে প্রধান উপাদান রয়েছে আয়রন । আয়রন থাকার কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ এবং লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে শরীরের রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। তাছাড়া এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। আর আমরা তো জানি ভিটামিন সি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী। ভিটামিন সি বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ও ঠান্ডা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য লাউ শাক যথেষ্ট উপকারী সবজি এবং যারা ডায়েট কন্ট্রোল করে তাদের ক্ষেত্রে লাউশাক অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার।
লাউশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস। এর ফলে শরীরে ঘামজনিত লবনের ঘাঁটতি দূর করে। যারা অতিরিক্ত মাত্রায় ঘেমে যায় শরীর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ বের হয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে লাউ শাক অতন্ত উপকারী একটি খাবার। এটি খাবার ফলে আপনার শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করবে এবং সেইসাথে দাঁত ও হাড়কে মজবুত করবে। যাদের কোষ্ঠকাণীষ্ঠ সমস্যা আছে তারা লাউ শাক খেতে পারেন। এছাড়াও যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তারাও লাউ শাক খেতে পারেন। এতে আপনার সমস্যা অনেক অংশে হ্রাশ পাবে।
লাউশাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যা মানব শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে থাকে। তবে ভিটামিন সি থেকে পটাশিয়ামের কার্যকারিতা অনেক শক্তিশালী। এমনকি যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে লাউশাক ওষুধের মত কাজ করে। নিয়মিত লাউশাক খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায় এবং যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তারা নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে লাউশাক খেতে পারেন।
এছাড়াও আরো অনেক উপকার এবং পুষ্টিগুণে ভরা লাউশাক। যা আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখতে পারেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশেও আজকাল লাউশাকের চাষ করা হচ্ছে। এতে করে যেমন দেশে পুষ্টি ঘাটতি চাহিদা পূরণ হচ্ছে, সেই সাথে বাজারজাত করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যবসায়িকভাবে না হলেও অনেকের বাড়ির আঙিনায় অথবা বাড়ির ছাদে দেখা যায় এই লাউ গাছ লাগানো। এতে করে যেমন পরিবারে পুষ্টির চাহিদা পূর্ণ হচ্ছে ,সেই সাথে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে। তো পরিশেষে আমরা এটা বলতে পারি যে, লাউ শাক অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার এবং সেই সাথে লাউ অত্যন্ত সুষম এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি খাবার। সুতরাং আমরা লাউশাক চাষ করতে পারি। সেই সাথে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেও অর্থ উপার্জন করতে পারি।
নিচে ১০০ গ্রাম লাউশাক এর পুষ্টি গুণ উল্লেখ করা হলো!
১০০ গ্রাম লাউয়ের রয়েছে জলীয় অংশ ৯৬.১০ গ্রাম, আঁষ ০.৬গ্রাম, আমিষ ০.২ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ২.৫ গ্রাম, এবং খাদ্য শক্তি ১২ কিলো ক্যালরি।
তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের লাউ শাক সম্পর্কে আজকের প্রতিবেদন। আশা করি আপনারা সবাই লাউশাক সম্পর্কে বুঝতে পারছেন এবং অনেক কিছুই জানতে পারছেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

