জলপাই কেন খাবেন জেনে নিন জলপাইয়ের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ!
বাঙালিরা খাদ্যপ্রেমিক জাতি। আমরা সবাই খেতে ভালবাসি।এবং বিভিন্ন প্রকারের খাবার আইটেম তৈরি করে থাকি। এক একটা খাবারের স্বাদ এক এক রকম হয়ে থাকে। আজকে আমরা আলোচনা করব জলপাই সম্পর্কে। জলপাই, এটি সবাই চেনে। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এলাকায় জলপাই পাওয়া যায়। যেসব অঞ্চলে জলপাই গাছ না জন্মাতে পারে, বিশেষ করে লবণাক্ত অঞ্চলে, সেখানেও হাটে বাজারে এই জলপাই কিনতে পাওয়া যায়। জলপাই ফলটি একটু সস্তা হলেও রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন। যেগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি আপনার একটি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা পূরণ করতে পারে।তো আসুন আমরা জেনে নিই এই জলপাই সম্পর্কে! কি কি পুষ্টিগুণ আছে এর ভিতর? এবং এটি খাইলে কি হবে? এবং কি কি কাজে এই জলপাই ব্যবহার করা হয়?
জলপাই খাওয়ার উপকারিতা
প্রথমেই যেটা বলা উচিত
সেটি হল জলপাই একটি আঁশযুক্ত খাবার। জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার যেটাকে বলে। যেটা পাকস্থলীর বিভিন্ন অংশ, অর্থাৎ ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদন্ত্র, কোলনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। সেই সাথে আঁশযুক্ত খাবার হজমে সহায়তা করে। তাই এ কথা বলা যায় যে জলপাই খাবারটি অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার।
দ্বিতীয়তঃ
জলপাই খেলে দেহের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এটি দেহের রক্ত চলাচল প্রক্রিয়াটি ঠিক রাখে। ফলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর লাইপো প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে আনে এবং হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষা প্রদান করে। যে কারণে হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
তৃতীয়তঃ
আমরা জানি টক জাতীয় খাবারে ভিটামিন সি-এর পরিমাণটা অনেক বেশি থাকে। সুতরাং জলপাইতেও রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি, ও সেই সাথে ভিটামিন এ । আর এটা তো সবাই জানে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ শরীরের জন্য কতটা উপকারী উপাদান। চোখের বিভিন্ন রোগের সমস্যা দূর করে ভিটামিন এ। তাছাড়া চুল দাঁত হাড়কে মজবুত রাখে এই ভিটামিন এ এবং সি।
চতুর্থতঃ
অনেকের আছে রাতকানা রোগ এর সমস্যা। তাছাড়া চোখ ওঠা, চোখের পাতা ইনফেকশন হওয়া,এ সকল সমস্যা দূর করতে জলপাইয়ের অবদান অপরিসীম। এসব সমস্যা হলে জলপাই নিয়মিত খেলে এই সমস্যাগুলো আর হবে না ।এবং সুষ্থ মানুষ যদি নিয়মিত জলপাই খায় তাহলে তাদের ভবিষ্যতে এরকম সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে সর্বদা সুস্থতা প্রদান করেবে।
আরো পড়ুন খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন https://www.sbdfoodtips.xyz/2023/03/Benefits-and-nutritional-value-of-dates.html
তাছাড়া যে ব্যক্তি সর্বদা নিয়মিত জলপাই খায় তার শরীরে গলব্লাডার ও পিত্তথলিতে পাথর, বাতের ব্যথা কিংবা রিউমাটেড আর্থাইটিস এর পরিমাণ অনেকাংশে কমে যায়। এবং শরীরকে সুস্থতা প্রদান করে। জলপাইতে প্রাকৃতিক এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে । যেটা আমরা সবাই জানি দেহের ক্যান্সারের জীবাণুকে ধ্বংস করে, অর্থাৎ ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। সুতরাং জলপাই খাওয়ার ফলে শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।
আজকাল জলপাইয়ের তেল ও বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
জলপাইয়ের তেল যে কোন বয়সের মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি পদার্থ।জলপাইয়ের তেলে নেই কোন চর্বি বা কোলেস্টেরল। তাই এটি ব্যবহারের ফলে শরীরে বা রক্তের চর্বি বা লিপিড জমে যাওয়ার ভয় থাকে না। অন্যদিকে রক্তের চর্বি বা ফ্যাট এর পরিমাণও কমে আসে অনেকাংশে। সুতরাং যাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট বা চর্বি রয়েছে তারা জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন। আশা করি অনেক উপকার পাবেন।
তাছাড়া আরো একটি উপাদান রয়েছে , যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান ।সেটি হল অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। এটি রয়েছে জলপাইতে প্রচুর পরিমাণে। এবং এটি শরীরের বিভিন্ন রোগ জীবাণু ধ্বংস করে এবং সূর্যের যে অতিবেগুনি রশ্নি এটা থেকেও আমাদের রক্ষা করে।
তো এতক্ষণ ধরে আমরা আলোচনা করলাম জলপাইয়ের উপকারী গুণগুলো, এবং আমাদের প্রতিটা পয়েন্টে উল্লেখ করেছি যে , জলপাইয়ের অত্যন্ত উপকারী এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। যেটি ছোট বড় সবারই কমবেশি খাওয়া উচিত। এবং এছাড়াও জলপাই তে আরো অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জলপাই আপনি কিভাবে খেতে পারেন?
জলপাই আপনি যেকোন উপায়ে খেতে পারেন। আপনি এটি যেভাবে খাবেন সেভাবে এর উপকার পাবেন। অনেকেই কাঁচা অবস্থায় খেয়ে নেয়। অনেকে রান্না করে খায়, আবার অনেকে আছে এটি আচার তৈরি করে খায়। তবে আমার মতে বা আমার কাছে আচার করে খাওয়াটাই বেশি স্বাদ যুক্ত। তবে কাঁচা অবস্থায় খেলে এটি বেশি উপকার পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের জলপাইয়ের আচার বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে খাবারের মেনুতে। শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের অনেক দেশে এখন এটি তৈরি করা হয়, এবং আচারের ক্ষেত্রে জলপাই বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে। তো আপনি যে কোন উপায়ে জলপাই খেতে পারেন, কাঁচা অবস্থায় খেতে পারেন ,রান্না করে খেতে পারেন ,অথবা ভর্তা করে খেতে পারেন, এবং আচার করেও খেতে পারেন।
Disclaimer
তো বন্ধুরা এই ছিল আজকের জলপাই সম্পর্কে প্রতিবেদন ।আশা করি লেখাটি পড়ে সবার ভালো লাগছে এবং জলপাই সম্পর্কে একটু হলেও আপনারা জানতে পেরেছেন । লেখাটি পড়ে কোন প্রশ্ন থাকলে অথবা কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারবেন। সেই সাথে আমাদের এই সাইটটি ভিজিট করার অনুরোধ রইল। এরকম আরো অনেক পোস্ট করা হয়েছে এই সাইটে । বিভিন্ন খাবার সম্পর্কে, খাবারের গুনাগুন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। তো বন্ধুরা কথা হবে পরবর্তী পোস্টে, সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন ,এবং বিশেষ করে খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিন। শরীর চর্চা করুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন।ধন্যবাদ সবাইকে

