ডাবের জলের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন! Benefits and nutrition of coconut water!

ডাবের জল কেন খাবেন জেনে নিন ডাবের জলের কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে!

ডাব ঈশ্বরের সৃষ্টি এক অতুলনীয় বস্তু। ডাবের জলে রয়েছে হাজারো পুষ্টিগুণ, যা আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা। আজকের এই পোস্টে আমরা ডাবের জল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানব।

ডাব বাংলাদেশের সর্বত্র অঞ্চলেই পাওয়া যায়। এটি মিষ্টি এলাকাতেও হয়। আবার লবণাক্ত এলাকাতেও হয়। ডাব ঈশ্বরের সৃষ্ট এমন একটি বস্তু, যেখানে শুধুমাত্র লবন এলাকা, অন্য কোন গাছ জন্মাতে পারে না! সেখানেও হয়ে থাকে। এবং লবণ আবহাওয়া এবং লবণ পানির ভিতরেও  ডাবের জল সুমিষ্ট হয়ে থাকে। এবং মানুষের খাবারের যোগ্য ও নিরাপদ বিশুদ্ধ পানীয় হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে।   ডাব গাছের সব জিনিসই মানুষের কোন না কোন কাজে লাগে। যেমন ডাব গাছের পাতা দিয়ে জ্বালানি এবং ঝাড়ু তৈরি করা হয়। ডাব গাছ দিয়ে কাঠ বা পাটাতন তৈরি করা হয়। নারকেল দিয়ে তেল তৈরি করা হয় এবং ডাব তো খাওয়ার জন্য খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবমিলিয়ে ডাব গাছ অত্যন্ত উপকারী এবং দরকারী একটি বৃক্ষ।

 তো বন্ধুরা আমরা আজ শুধু ডাবের জল সম্পর্কে আলোচনা করব। কি কি পুষ্টিগুণ আছে এই ডাবের জলে ? সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।


ডিহাইড্রেশন
অতিরিক্ত গরম যে সময় পড়ে, অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম পড়ার কারণে মানুষের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় জল বেরিয়ে যায়। শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। আবার কখনো বা অতিরিক্ত বমি হওয়ার ফলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় জলটা বেরিয়ে যায় এবং বিশেষ করে যারা মরুভূমি অঞ্চলে অথবা সাগর কিনারায় থাকে, তাদেরও শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা হয়ে থাকে ।সমস্যা সমাধানের একটি সহজ সাধ্য মাধ্যম হলো ডাবের জল। একটা কথা মনে রাখবেন, এই ডিহাইড্রেশন সমস্যার ফলে একটা মানুষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হতে পারে। কারণ আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন অতিরিক্ত গরমে যখন আপনার শরীর ঘেমে সব জল বেরিয়ে যায় তখন আপনার শরীরের কেমন অবস্থা হয়। এবং সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান।  ডাবের জল অতি অল্প মাত্রায় পান করলেও শরীরে এই ডিহাইড্রেশন এর সমস্যা সমাধান করে দেয় ।কারণ এই ডাবের জলে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট যা শরীরে এনার্জি বাড়ায়।

এটি ব্লাড প্রেসারেও বিরাট ভূমিকা রাখে!
ব্লাড প্রেসার এমনই একটা সমস্যা যেটা একবার মানুষের হয়ে থাকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবিরত ভাবে চলতেই থাকে। যাদের ব্লাড প্রেসার আছে তারা ভালোভাবেই জানে বিষয়টা। তো ডাবের জল মানুষের এই ব্লাড প্রেসারটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি যা ব্লাড প্রেসার কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে একটা কথা জেনে রাখা ভালো ডাবের জল যেহেতু খেতে একটু মিষ্টি, সে ক্ষেত্রে যাদের ডায়াবেটিক্স এর সমস্যা আছে তারা পরিমাণ মতো খাবেন । অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আপনার ডায়াবেটিসের সমস্যা হলে হতে পারে। তো অবশ্যই তারা এটি পরিমাণ মতো পান করবেন।


হার্টের সমস্যা দূর করে ডাবের জল!
আজকাল অনেকেরই দেখা যায় হার্টের সমস্যা রয়েছে। তো যাদের এই সমস্যাটা আছে তাদের ক্ষেত্রে ডাবের জল অত্যন্ত কার্যকরী একটি খাবার । ডাবের জল খাওয়ার ফলে হার্টকে ভালো রাখে । তাই যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডাবের জল রাখতে পারেন। এবং বিজ্ঞানীরা একটা গবেষণায় প্রমাণ করেছিলেন যে যারা নিয়মিত ডাবের জল খায় তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কম থাকে।  সেই সাথে এটি মানুষের হাইপার টেনশন কমায়।

হাড়ের গঠনকে শক্ত এবং মজবুত করে!
হাড়কে শক্ত এবং মজবুত রাখতে শরীরে প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়ামের এবং সেই সাথে আরো বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে ডাবের জলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, যেটা হাড় শক্ত করার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করে। এবং এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম যেটা হারকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাই শরীরে হাড়ের গঠন ঠিক রাখতে এবং শক্ত রাখার জন্য ডাবের জল খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

স্কিন ইনফেকশনের সমস্যা সমাধান!
যাদের শরীরে বিভিন্ন স্পট অথবা স্কিনে ইনফেকশন থাকে তাদের ক্ষেত্রে ডাবের জল অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। ডাবের জল নিয়মিত সেবন করার ফলে আপনার শরীরের স্ক্রিনের ইনফেকশন কমে যাবে। কারণ ডাবের জলে রয়েছে এন্টিফাঙ্গাল বা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন। যেটা আপনার স্কিনকে উজ্জ্বল এবং সতেজ করে তুলবে। এবং সেই সাথে স্কিনের ইনফেকশন দূর করবে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের ক্ষেত্রে ডাবের জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাবের জল আপনার ত্বককে চকচকে করার পাশাপাশি এটি প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চার এর কাজ করে ।এবং ত্বক তৈলাক্ত হলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে তাকে মশ্চারাইজার করে।

গ্লোয়িং স্কিন!
আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা গ্লোয়িং স্কিনের মূল রহস্য হলো ডাবের জল। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ভেতর থেকে তরতাজা করে এবং ত্বক কে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে দেয়। যদি নিয়মিত হারে ডাবের জল দিয়ে মুখ ধোয়া হয় তাহলে পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারবেন। এটি আপনার ত্বকের মৃত কোষ দূর করে আপনার ত্বককে আরো উজ্জ্বল এবং সুন্দর করবে।

চুলের সমস্যায় ডাবের জল!

চুলের সমস্যা আজকাল অধিকাংশ মানুষেরই দেখা যায়। ত্বকের সঙ্গে চুলের সমস্যা ও চুলকে ভালো রাখতে ডাবের জল অত্যন্ত কার্যকারী একটি উপাদান। ডাবের জল স্কেলপের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। যে কারণে চুল কম পড়ে । এছাড়াও ডাবের জল প্রাকৃতিক কন্ডিশনারেরও কাজ করে এবং চুলকে রুক্ষ হয়ে যাবার হাত থেকে বাঁচায়। যে কারণে চুল মসলিন থাকে। ডাবের জল সেই সাথে মাথায় খুশকি ও নিয়ন্ত্রণ রাখে। তাই যাদের চুলের সমস্যা চুল ওঠে অথবা ভেঙে যায় তারা ডাবের জল ব্যবহার করতে পারেন।

তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের প্রতিবেদন। আশা করি সবার ভালো লাগছে। এতক্ষণ ধরে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কথাহবে পরবর্তী পোস্টে, সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

 ধন্যবাদ সবাইকে

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement