পেঁপে খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন! Rules and benefits of eating papaya and nutrition!

পেঁপে কেন খাবেন? জেনে নিন পেঁপে খাবার হাজারো উপকারিতা!

পেঁপে আমাদের সবারই পরিচিত এবং সুস্বাদু একটি খাবার। বিশেষ করে পাকা পেঁপে। বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে এটি পাওয়া না যায়। পেঁপের উপকারিতা রয়েছে অনেক। পেঁপে একটি সবজি হিসেবে খাওয়া যায় অথবা কাঁচা পেঁপে ফল হিসেবেও খাওয়া যায়। তবে পাকা অথবা কাঁচা উভয়ই অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। যেটা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী পুষ্টি উপাদান। শুধু তাই নয় প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্রে পেঁপে কে ভিটামিনের স্টোরও বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এক নজরে দেখে নিন পেঁপের উপকারিতা গুলো!

ব্রণ ও কালো দাগ দূর করা!

যাদের মুখে ব্রণ থাকে অথবা কালো স্পট থাকে তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে অত্যন্ত কার্যকরী একটা খাবার। যেটা মুখের ব্রণ কমাতে এবং কালো স্পট দূর করতে বিশেষ কাজ করে। এটি খাওয়ার ফলে আপনার ত্বক আরো বেশি উজ্জ্বল এবং গ্লোয়িং করবে। বিশেষ করে মুখের মরা কোষ দূর করে নতুন কোষের সৃষ্টি করে । যে কারণে আপনার সৌন্দর্য অনেক অংশে বৃদ্ধি পাবে এবং সেই সাথে ব্রণ ও কালো স্পট দূর হয়ে যাবে। যাদের এই সমস্যাটি আছে তারা অবশ্যই বেশি করে কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। সেই সাথে এক টুকরা পাকা পেঁপে আক্রান্ত স্থানে ভালো করে ঘষে নিন। তারপর আধাঘন্টা রেখে  ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে তিন থেকে চার বার করলে আপনার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

দেখে নিন পেঁপে রূপচর্চায় কিভাবে ব্যবহার করা হয়!

> পেঁপেতে আছে ভিটামিন এ এবং বিশেষ এক ধরনের প্রোটিন, যা আপনার শরীরের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। ফলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং লাবণ্যযময় হয়।

> কাঁচা পেঁপে ব্লেন্ডারে পিষে পেস্টের মত করে মুখে লাগালে, আপনার মুখের ব্রণের সমস্যা ও কালো দাগের সমস্যা দূর হবে। ব্লেন্ডার না থাকলে পাকা পেঁপে ও লাগাতে পারেন তবে ব্রণের সমস্যার ক্ষেত্রে কাচা পেঁপে বেশি উপকার দিবে।

> যাদের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায় তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে অত্যন্ত উপকারী একটি ওষুধ হিসেবে কাজ করে। পেঁপে বেটে পায়ে লাগালে পা ফাঁটা বন্ধ হয়ে যায় এবং পা মসৃণ হতে শুরু করে। পেঁপের খোসা মুখে ত্বকে হাতে কিংবা  গায়ে লাগিয়ে রাখলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে উঠবে।

> যারা মুখে ত্বকে নিয়মিত পেঁপের রস লাগায় তাদের বয়সের ছাপ পড়ে না ,অর্থাৎ অনেক বয়স হয়ে গেল ও আপনার ত্বক তারুন্য এবং উজ্জ্বল থাকে।


> যাদের মুখের ত্বক খসখসে এবং অমসরিন তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে বাটা ও মধু একসাথে মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তাহলে ত্বকের শুষ্কতা চলে যাবে এবং ত্বক মসৃণ এবং কমল হবে।

> যাদের চুলে প্রচুর পরিমাণে খুশকি দেখা দেয় কোনভাবেই তার সমাধান করতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে চুলে শ্যাম্পু করার আগে পেঁপে বাটা বা পেঁপের রস লাগিয়ে রাখতে হবে তাহলে আপনার খুশকি সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

হজম শক্তি বাড়াতে পেঁপের গুনাগুন!

হজমে গোলমাল এটি একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ছোট বড় অনেকেরই এই সমস্যা দেখা যায়। হজম শক্তি কমে গেলে অম্বল, মুখে চোকা ঢেকুর ওঠে, পেট ব্যথা, কখনো বুকে চিনচিন ব্যথা, এসব লক্ষণ দেখা যায়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরে অবসাদ এবং ক্লান্তি নেমে আসে ।এই সমস্যার ক্ষেত্রে পেঁপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম যা খাবারকে হজম করতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পানি এবং দ্রবণীয় ফাইবার। যে কারণে পেটের সমস্যায় যেসব মানুষ ভোগে থাকেন তারা নিয়মিত পাকা অথবা কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনার সমস্যা অনেকাংশে উপশম হবে।

রক্ত আমাশয় প্রতিরোধে পেঁপে!

রক্ত আমাশয় মানুষের অনেক বড় একটি সমস্যা। আশেপাশে অনেকেই দেখা যায় এই সমস্যায় ভুগছেন। তো তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাহ সকালে কাচা পেঁপের আঠা ৫ থেকে ৬ ফোঁটা, পাঁচ থেকে ছয়টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আপনার এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তবে কমপক্ষে তিন থেকে চার দিন খেতে হবে। তাছাড়া এটি আপনি মাঝে মাঝে খেতে পারেন তাতে কোন সমস্যা নেই।

কৃমি সমস্যার সমাধান!

শরীরের যেকোনো প্রকার  কৃমির সমস্যা হলে পেঁপের আটা ১৩ থেকে ১৪ ফোটা এবং মধু এক চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধাঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে এবং আধা ঘন্টা পর উষ্ণ পানি আধা কাপ খেয়ে এক চামচ বাখারি খেতে হবে। এভাবে যদি দুইদিন খাওয়া হয় তাহলে আপনার কৃমি উপদ্রব কমে যাবে।

আমাশয় প্রতিরোধে পেঁপে!

আমাশয় ও পেটে যন্ত্রণা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও এক চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে ।এভাবে মাত্র এক থেকে দুই দিন খেলে পেটে ব্যথা সহ আমাশয় কমে যাবে। আমাশয় থেকে মুক্তি পাওয়ার এক আশ্চর্য সমাধান হলো পেঁপের আঠা।

যকৃত বৃদ্ধিতে পেঁপের উপকারিতা!

অনেকেরই আছে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। এমন অবস্থায় ৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে মিশিয়ে নিবেন এভাবে সারাদিনে গড়ে তিনবার ভাগ করে খেতে হবে। চার থেকে পাঁচ দিন পর  আপনার যকৃত বৃদ্ধি টা কমে যাবে। তবে পাঁচ থেকে ছয় দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে দুই দিন রেস্ট দেওয়া ভালো। অর্থাৎ সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ দিন খাবেন এভাবে এক মাস খেতে পারেন।

শরীরে এন্টি বডি তৈরি করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়!

পেঁপেতে রয়েছে  প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, এবং ই, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে এন্টিবডি তৈরি করে। যার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বৃদ্ধি পায় অনেকাংশে। তাছাড়া ভিটামিন এ থাকার কারণে এটি চোখেরও বেশ উপকার করে। এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও বিশেষ কাজ করে। এতে চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেঁপে একটি আদর্শ খাবার। এবং যাদের ডায়াবেটিস নাই তাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পেঁপে রাখাটা অত্যন্ত উপযুক্ত। সেই সাথে পেঁপে ডায়াবেটিস হওয়া প্রতিরোধ করে।

হাড়ের গঠন ও মজবুত করে!

পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং কপার যেটা শরীরের হাড় এবং দাঁতের গঠন মজবুত করে ও শক্তিশালী করে। তাই নিয়মিত আমাদের পেঁপে খাওয়া উচিত। সেই সাথে এটি কোলেস্টেরল কমায়। পেঁপেতে থাকা ফাইবার ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ধমনীর কোলেস্টেরল জমাতে বাধা প্রদান করে, এবং আমরা তো সবাই জানি ধমনীতে চর্বি জমার কারণে হার্ট এট্যাক্ট এর মত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সাথে কাঁচা পেঁপে খেলে শরীরে চর্বি বা মেদ কমে। এতে কোন খারাপ কোলেস্টেরল বা চর্বি নেই। যে কারণে যারা একটু বেশি মোটা তারাও নিশ্চিন্তে এটি খেতে পারেন।

তো সর্বোপরি এটা বলা যায় পেঁপে অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। এটি কাঁচা অথবা পাকা  উভয় অবস্থাতে খেতে পারেন এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটি অবশ্যই রাখতে পারেন ।
তো বন্ধুরা আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই আশা করি পেঁপে সম্পর্কে আপনারা অনেকটাই জানতে পেরেছেন। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে, সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ, থাকুন। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান এবং শরীর চর্চা করুন।

ধন্যবাদ

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement