মিষ্টিকুমড়া খাওয়ার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন সম্পর্কে জানুন! Learn about the benefits and nutritional value of eating sweet pumpkin!

মিষ্টি কুমড়া কেন এত বেশি জনপ্রিয়? জেনে নিন মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে!




     মিষ্টি কুমড়া অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সবজি, যা বাংলাদেশের সর্বত্র অঞ্চলেই পাওয়া যায়। এবং এটি ব্যাপক হারে ভারত সহ বাংলাদের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হয়। মিষ্টিকুমড়া খেতে অতন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। এক কথায় কুমড়ার মত সুস্বাদু সবজি খুব কমই আছে। তাছাড়া হালকা মিষ্টি স্বাদের এই সবজিটি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। খাদ্য তালিকায় বা আপনার প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে এটি রাখতে পারেন। কারন এই মিষ্টি কুমড়া আপনাকে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে। কেননা মিষ্টি কুমড়া এমনই একটি সবজি যাতে রয়েছে হাজারো পুষ্টিগুণ।

জেনে নিন মিষ্টি কুমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে!

চোখের সুরক্ষায় মিষ্টি কুমড়ার অবদান অত্যন্ত বেশি। কেননা মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। যা চোখের কর্নিকাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। আর আমরা তো সবাই জানি ভিটামিন এ চোখের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ । যাদের ভিটামিন এর ঘাটতি আছে তাদের চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তো এই সমস্যা সমাধানের জন্য অথবা ভবিষ্যতে যাতে এই সমস্যা না হয় সে কারণে মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। এতে আপনার ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ হবে এবং আপনার চোখকে ভালো রাখবে।



দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই মিষ্টি কুমড়া!  এককথায় বলা যায় মিষ্টি কুমড়া হল বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টিগুণের ভান্ডার । এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ,ভিটামিন ই ,আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ,সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। যা আপনার শরীরের টিস্যুকে রক্ষা করে ।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে।

ওজন কমাতে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই মিষ্টি কুমড়া! কারণ মিষ্টি কুমড়ায় ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পটাশিয়াম থাকে। আর আমরা তো সবাই জানি ফাইবার দেহের খুদা নিয়ন্ত্রণ করে ,এবং পটাশিয়াম দেহের অপ্রয়োজনীয় পানি এবং লবণ বের করে দেয়। যাতে করে শরীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। তো সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে এটি খাওয়ার ফলে শরীর নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং যারা অতিরিক্ত মোটা অথবা শরীরে ফ্যাট বেশি তাদের ওজনকমাতে এটি বিষেশ গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করবে।

যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের পক্ষেও মিষ্টি কুমড়া অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার! কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। যা আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। সেই সাথে ভিটামিন সি,  এতে সাহায্য করে ।এবং মিষ্টি কুমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কারণ কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আন্টি অক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক । এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলেস্টেরল কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি চর্বি স্তর জমাতে বাধা প্রদান করে। যে কারণে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে হৃদরোগ এর ঝুকিও কম থাকে।

ঠান্ডা লাগা বা সর্দি কাশি হাত থেকে রক্ষা করে ! যেহেতু মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে এবংসর্দি ,কাশি ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  মিষ্টি কুমড়াতে থাকা ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের বিশেষ উপকার করে। তাই চকচকে উজ্জ্বল চুল ও উজ্জ্বল গ্লোয়িং ত্বকের জন্য ভিটামিন মিশ্রিত এই মিষ্টি কুমড়া খাওয়া উচিত। এছাড়াও ডায়াবেটিস এর বিশেষ উপকার করে।  এটি শরীরে নিয়মিত ইনসুলিন সরবরাহ করে এবং ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সাহায্য করে। মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার ফলে হজমেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুমড়ার বিচিতে থাকায় এক প্রকারের প্রোটিন যা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বয়সের ছাপ কমায়। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক ও হাইড্রোক্সাইড। আর আমরা তো সবাই জানি জিংক শরীরের ইউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সবশেষে বলা যায় মিষ্টি কুমড়া অত্যন্ত উপকারী এবং হাজারো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। যা সব ধরনের সব বয়সি মানুষেই খেতে পারেন। এটি বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খেতে পারেন। খিচুড়ি অথবা তরকারি হিসেবে, ভর্তা করে, বা ভাজি করে, খেতে পারেন। যেভাবে খাবেন এতে অত্যন্ত সুস্বাদু ও  পুষ্টিকর খাবার। খাদ্য রসিক মানুষের খাবারের মেনুতে প্রতিদিনই এই সবজিটি রাখতে পারেন।

আরো পড়ুন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/07/Nutrition and benefits of watermelon.html

বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের মিষ্টি কুমড়া সম্পর্কে প্রতিবেদন। আশা করি সবারই ভালো লাগছে। লেখাটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আপনাদের কমেন্টের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। কথা হবে আগামী পোস্টে ,সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন ।

ধন্যবাদ সবাইকে



Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement