মেথি ব্যাবহারের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন! Benefits and nutritional value of using fenugreek

মেথি কেন ব্যাবহার করবেন? যেনেনিন মেথির হাজারও পুষ্টিগুন!



 মেথি আমাদের সবার পরিচিত। হাটে বাজারে সর্বত্র এটি কিনতে পাওয়া যায়। যদিও এটি দামে অনেকটা সস্তা, তারপরও মেথির রয়েছে হাজারো গুনাগুন। মেথি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান, যা শুধু শরীরে নয় ত্বক এবং চুলের যত্নে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আপনি জানেন কি মানুষের শরীরের রক্তে শর্করা ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে মেথির গুরুত্ব ও অত্যন্ত ব্যাপক। এটি মানুষের রক্তচাপ, ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ , চুলপড়া রোদ, রক্তস্বল্পতো, সমস্যা এসব সমাধান করে থাকে। এক কথায় মেথিকে সুপার ফুড হিসেবে ও ধরে নেওয়া যায়।


তো বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করব এই মেথি সম্পর্কে। মেথি আসলে কিভাবে ব্যবহার করবেন? এটি ব্যবহারে কি হয় ? এসব বিষয় একটি প্রতিবেদন করব। 

মেথিতে থাকে ফলিক অ্যাসিড, রিবোফ্লাব ইন কপার, পটাশিয়াম , ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ সহ আরো অনেক উপাদান। যেগুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও এতে আপনি আরো পাবেন ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, এর মত পুষ্টির উৎস ।বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু গবেষণা তে এটি প্রমাণ করেছে যে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যায় মেথি মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করেছে।


এই ভেষস উপাদান মানুষের শরীরে গ্লুকোজের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ রাখে। এমনকি শরীরের বাড়তি কার্বোহাইড্রেট শোষণ করে শরীরকে সুস্থ ও সকল রাখে। তাছাড়া প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি মেথি রাখা হয় তবে অনেক কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনটি জানিয়েছেন ভারতের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দীঘা ভাবসার। তিনি সর্বপ্রথম এই কার্যকরী কথাটি জানিয়েছিলেন।

এক নজরে দেখেনি মেথির উপকারী দিকগুলো!

প্রতিদিন সকালে সারারাত ভেজানো মেথির পানি যদি খালি পেটে পান করা হয় তাহলে মানুষের খিদে ও হজম শক্তি বেড়ে যায় ।এছাড়াও যেকোনো খাবারের সঙ্গেই রাখতে পারেন এই মেথি। অর্থাৎ আপনি যে কোন খাবারের সাথেও এটি খেতে পারেন।


মেথি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের মাত্রা ও কমাতে সক্ষম তাই। যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে এমনকি শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের ক্ষেত্রে মেথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তারা অবশ্যই মেথি খেতে পারেন।

চুল পড়া সমস্যায় কম বেশি সবাই ভোগেন। কেননা আজকাল এই সমস্যাটা একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তো যাদের এই সমস্যাটি আছে তাদের ক্ষেত্রে মেথি অত্যন্ত কার্যকরী একটি ওষুধ। আপনি জানেন কি মেথি চুল পড়া রোধ করে এবং মেথি ব্যবহার ফলে চুল পড়া বন্ধ হওয়া এবং চুলে পুষ্টিহীনতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই মেথি। রক্তের যাবতীয় দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে রক্তকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এই মেথি। তাছাড়া যাদের কোষ্ঠকানিষ্ঠ, শরীরে ফোলা ভাব, পেশির ব্যথা, হাঁটুরগীতে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে মেথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত মেথি খেলে আপনার এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

আরো পড়ুন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/08/Make delicious chicken fries at home.html

কাশি হাঁপানি ব্রঙ্কাইটিস বুকে কফ জমা ইত্যাদি অনেকেরই ঠান্ডা জনিত রোগ হয়ে থাকে। একটু ঠান্ডা লাগার কারণেই তাদের এই সমস্যাগুলো বাড়তে থাকে। তাদের ক্ষেত্রেও মেথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মেথি খাওয়ার নিয়ম অথবা কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন?

প্রথমে এক থেকে দুই চা চামচ মেথির বীজ সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। এবং সকালে ওই পানি খেতে পারেন, অথবা চাইলে ওই পানি ফুটিয়ে চা তৈরি করেও খেতে পারেন। এতে আপনার পুষ্টিগুণ কমবে না।

দ্বিতীয়তঃ মেথি গুড়া করে দিনে দুবার খাবার আগে বা রাতে গরম দুধ বা পানির সঙ্গে মিশিও খেতে পারেন। তবে এটি দুধের সাথে খেলে পুষ্টিগুণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তাছাড়া এই মেথি বেটে কিংবা ব্লেন্ডারে পিষে দই বা অ্যালোভেরা জেলে কিংবা পানির সাথে মিশিয়ে  চুলে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে আপনার খুশকি, চুল পড়া, চুল পাকা, ইত্যাদি সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম পাবেন।

চতুর্থত গোলাপ জল দিয়েও তৈরি করতে পারেন । মেথির পেস্ট এটি ব্যবহার করলে আপনার চোখের নিচের কালো দাগ ব্রণের দাগ ও বলিরেখা দূর হয়ে যাবে।

পরিশেষে এটি বলা যায় মেথি অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার এবং সেই সাথে একটি প্রসাধনী। এটি ব্যবহারের ফলে আপনার বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। সেই সাথে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে শরীরকে সুস্থতা প্রদান করে।

তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের মেথি সম্পর্কে প্রতিবেদন। আশা করি সবাই বিষয়টি বুঝতে পারছেন। ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন।

 ধন্যবাদ সবাইকে

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement