কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম! Benefits of eating blackberries and eating rules!

কালোজিরা কেন খাবেন? জেনেনিন কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা!



কালিজিরা যা আমাদের সবার পরিচিত একটি খাবার। শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে নয়, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ও কবিরাজের  সাথেও কালিজিরার বহুল ব্যবহার পাওয়া যায়। কালোজিরা খুবই উপকারী একটি ভেজষ গুণ সমৃদ্ধ খাবার। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে সর্ব রোগহারী ওষুধ বলে আখ্যায়িত করেছে। অর্থাৎ কথায় আছে মৃত্যু ছাড়া সর্ব রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে কালোজিরা। কালোজিরের বীজ থেকে এক ধরনের তৈরি করা হয়ে থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন এবং দরকারি একটি উপাদান।

প্রাচীনকাল থেকে এটি নানা রোগের প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রতি এক গ্রাম কালিজিরা যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম আয়রন, ফসফরাস কপার, জিংক ,এবং ফুলাসিন বিদ্যমান থাকে। কালোজিরা সবার পরিচিত একটি নাম। যা সকল প্রকার মানুষেরা ভালোভাবে চেনে।

 কালোজিরা সাধারন্ত খাবারের ফোড়ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে কোন রান্নায় কালোজিরা ব্যবহার করলে সেই রান্নার পুষ্টিগুণ দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া আজকাল দেখা যায় কালো জিরে দিয়ে সাদা আলু চচ্চড়ি, ইলিশ মাছের পাতলা ঝোল, এছাড়াও নিমকি তৈরি করা হয়ে থাকে। এসব খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। তাছাড়া আজকাল বিভিন্ন চপ  তৈরি বেসনের গোলাতেও কালোজিরা মেশানো হয়ে থাকে। খুব বহু দিন থেকে কালিজিরা মানব দেহের প্রতিরোধক  হিসেবে কাজ করে আসছে। এজন্য এ কে সকল রোগের মহা ঔষধ বলা হয়ে থাকে। তাই আমাদের মানব শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে নিয়মিত কালোজিরা খাওয়া করা উচিত।

নিয়মিত কালোজিরা সেবন করার ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ কার্যক্ষমতা আরো শক্তিশালী করে তোলে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বতেজ থাকে এবং যেকোনো জীবনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে। তাছাড়া সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। যাদের নিয়মিতভাবে পেটের সমস্যা হয়ে থাকে, পেটে ব্যথা অথবা পেটের বিভিন্ন সমস্যা থাকলে, কালিজিরা সামান্য ভেজে গুড়া করে, ৫০০ মিলিগ্রাম হারে সাত থেকে আট চা চামোচ দুধে মিশিয়ে সকাল এবং বিকালে সাত দিন ধরে নিয়মিত সেবন করলে, বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। তাছাড়া সকালে কালোজিরা সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের রক্তে গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। যে কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকে মনে করেন মধু যেহেতু মিষ্টি জিনিস সেহেতু মধুতে হয়তো ডায়াবেটিস বৃদ্ধি করে। আসলে কথাটি সম্পূর্ণ ভুল ,আমি আগের পোস্টে মধু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ,এবং সেখানে ডায়াবেটিস সম্পর্ক আলোচনা করেছি। আপনারা ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানতে হলে আগের পোস্টটি দেখে নিতে পারেন, এবং সেখান থেকে এটি বুঝতে পারবেন যে মধু এবং কালিজিরা একসাথে খেলে ডায়াবেটিসের উপকার হয় এতে কোন ক্ষতি হয় না।


যাদের বাতের ব্যথা আছে। যেখানে সেখানে ব্যথা হয়। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে কালিজিরা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাতের ব্যথায় আরাম পেতে ব্যথার জায়গায় ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে সেখানে কালিজিরার তেল আলতোভাবে মালিশ করে নিন। ১ চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সঙ্গে এক চা চামচ কালিজিরা তেল ও একটা চামচ মধু মিশিয়ে দিলে তিনবার খেতে পারেন। এভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ নিয়মিত সেবন করলে আপনার দাঁতের ব্যথা নির্মূল হয়ে যাবে। অনেকে আছে যারা পিঠের ব্যথায় ভুগছেন তাদের জন্য এক আশ্চর্যজনক ওষুধ হল কালোজিরা। কালোজিরা থেকে তৈরি করা তেল আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদি রিউমেটিক এবং পিঠের ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়া কালোজিরা এবং মধু খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়ে থাকে।



সর্দি কাশি জন্য কালিজিরা মহা ওষুধ হিসেবে কাজ করে । সর্দি কাশিতে আরাম পেতে এক চা চামচ কালোজিরা তেলের সঙ্গে  আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনে তিনবার সেবন করুন দেখবেন, আপনার সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাছাড়া পাতলা কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে, নাকের কাছে নিয়ে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে সুখলে আপনার বন্ধ নাক ছেড়ে দিবে। এবং সর্দি থেকে দ্রুত উপশম মিলবে। পাশাপাশি এক চা চামচ কালোজিরা সঙ্গে তিন চা চামচ মধু ও দুই চা চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর সর্দি মাথাব্যথা এসব কমে যাবে। এবং বুকে যদি কফ বসে যায় কালিজিরা বেটে মোটা করে  প্রলেপ দিলে  দ্রুত উপশম পাবেন।  একই সাথে হাপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য কালোজিরা দারুণ উপকার করে থাকে। নিয়মিত হারে  কালোজিরার ভর্তা খেলে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।

তাছাড়া এটি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। যাদের ব্লাড প্রেসারের সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন সকালে দুই কোয়া রসুন কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে এবং কালোজিরা তেল সারা শরীরে মেখে রোদে আধা ঘন্টা থাকলে আপনার ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। পাশাপাশি এক চা চামচ কালোজিরা তেল একটা চামচ মধু মিশিয়ে খেলেও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত যদি কালোজিরা খাওয়া হয় তাহলে দেহের রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ঘটে। যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এবং শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের পোস্টটি। আশা করি এটি পড়ে সবার ভালো লাগছে। একটু হলেও জানতে পেরেছেন কালোজিরা সম্পর্কে। পোস্টটি সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব আপনার কমেন্টের উত্তর দেওয়ার। এতক্ষণ ধরে লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিজের শরীরের যত্ন নিবেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন এবং প্রতিনিয়ত শরীর চর্চা করবেন।

 ধন্যবাদ সবাইকে

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement