মধু কেন খাবেন? জেনে নিন মধু খাওয়ার উপকারিতা! Why eat honey? Learn the benefits of eating honey!

মধু কেন খাবেন? কিভাবে খাবেন? এটি খেলে কি হয়? জেনে নিন মধু খাওয়ার উপকারিতা!

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/07/why-eat-honey-learn-benefits-of-eating.html


মধু আমাদের সবার পরিচিত এবং সুস্বাদু একটি খাবার। যা সবারই খুব ফেভারিট একটি খাবার। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধু চাষ করা হয় এবং সেখান থেকে বিপুল হারে মধু সংগ্রহ করা হয়। তবে এছাড়াও প্রাকৃতিক ভাবেও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধু পাওয়া যায়। বিশেষ করে সুন্দরবনে  রয়েছে মধুর বিশাল ভান্ডার। প্রতিবছর হাজার হাজার মৌয়ালীরা মধু সংগ্রহ করতে সুন্দরবনে যায় ।এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে মধু সংগ্রহ করে, সারা বাংলাদেশে সেগুলো বিক্রি করা হয়। এবং পৌঁছে দেয় সাধারণ মানুষের হাতে।

মধুর উপকারিতা এবং অপকারিতা

মধু মানুষের জন্য ঈশ্বর প্রদত্ত এক অপূর্ব সৃষ্টি, যা অমৃত সমান বললেও ভুল হবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শরীরের যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর ভূমিকা অপরিসীম। প্রাচীন শাস্ত্রে মধুকে মহা ঔষধ বলেও আখ্যা দেওয়া আছে। বিশেষ করে আয়ুর্বেদ এবং ইউনানী চিকিৎসা শাস্ত্রে মধুকে বিশেষ স্থানে মর্যাদা দিয়েছে।  এটি যেমন মানুষের বল বৃদ্ধি করে তেমনি খেতেও সুস্বাদু ও উত্তম উপাদেয় খাদ্য নির্যাস, এবং রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র। আর সে কারণেই খাদ্য ও ওষুধ এই উভয় পুষ্টিগুণের সমৃদ্ধ মধুকে, প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিক পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক পানীয় হিসেবে সব দেশের মানুষ এটি ব্যবহার করে আসছে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে। মধুতে যেসব পুষ্টিগুণ বা পুষ্টি উপাদান রয়েছে তার ভেতর প্রধান হলো,  সুগার বা চিনি। সুগার আমরা অনেকেই এড়িয়ে চলি। কারণ কথিত আছে যাদের ডায়াবেটিস এর সমস্যা আছে তারা এই সুগার জাতীয় খাবার খেতে পারে না। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এই দুটি সরাসরি মোটাবোলাইজড হয়ে যায় এবং এটি চরবি হিসেবেও জমা হয় না। যে কারণে ডায়াবেটিসের রোগীরাও মধু খেতে পারবে। মসকো বিদ্যালয় মধুর নমুনা পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছে যে, এতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড,  টিন, ও জিংক, এসিড যেমন (মেলিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিজ এবং অক্সালিক অ্যাসিড,) কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোন, এসিটাইল, কোলিন ,অ্যান্টিবায়োটিক, ফাইটোন সাইড, এবং পানি ছাড়াও অন্যান্য অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। যা অন্য কোন খাবার অথবা ওষুধের ভিতরে পাওয়া যায় না। তাছাড়া মধুতে রয়েছে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড, ভিটামিন বি ১, বি২, বি৩, বি ৫, বি ৬, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ, বা ক্যারোটিন ইত্যাদি সবকিছুই কম বেশি হারে বিদ্যমান ।এবং মধু এমন ধরনের একটা ওষুধ, নিবারক অ্যান্টিসেপটিক এবং কোলেস্টেরল বিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধী। যে কারণে বছরের পর বছর মধু বাসায় রেখে দিলেও এটি নষ্ট হয় না। সবসময়ই ফ্রেশ এবং সুস্বাদু থাকে। ঋতু ভেদে অথবা বৈরী আবহাওয়া এটি নষ্ট হয় না। প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে খালি পেটে দুই চা চামচ এর মত মধু সেবন করলে এই সকল সমস্যার সমাধান হবে।

এক নজরে মধু খাওয়ার উপকারিতা

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/07/why-eat-honey-learn-benefits-of-eating.html

মধুর একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার। যা মৌমাছি ফুলের রস থেকে তৈরি করে। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে মধু উপকারিতা ব্যাখ্যা করে শেষ করা সম্ভব নয়। মধুর একটি বড় গুণ হলো এটি কখনো নষ্ট হয় না। এমনকি কয়েক বছরের পুরানো মধু কোন দ্বিধা ছাড়াই খাওয়া যেতে পারে। তবে নির্ভেজাল বিশুদ্ধ মধু হতে হবে। মধু অত্যন্ত ঘন হওয়ার কারণে এর ভিতর কোন জীবাণু এক ঘন্টার বেশি বেঁচে থাকতে পারে না। নিয়মিত মধু খাওয়ার ফলে শরীরে নানাবিধ পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। মধুতে সর্বমোট ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। যার ভিতরে গ্লুকোজ ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুটজ, ৫ থেকে ১২ শতাংশ মনটোজ, ০.৫ থেকে ০.৩ শতাংশ সুক্রোজ, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ, ২২ শতাংশ এমাইনো এসিড এবং ১১ শতাংশ এনকাইম রয়েছে। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই বললেই চলে। গড়ে মিলে ১০০ গ্রাম মধুতে প্রায় ২৮৮ ক্যালোরি থাকে।

(১) হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করে এবং রক্তনালী প্রসারণ এর মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন সহায়তা করে। তাছাড়া এর হৃদপেশির কার্যক্রম বৃদ্ধি করায় শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে।

(২) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

নিয়মিত মধু খাওয়ার ফলে শরীরে এন্টিসেপটিক এন্টি বডি তৈরি হয়।মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিগুণ হারে বাড়ায়। মধু খাওয়ার ফলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ প্রতিহত করা সহজ হয়।  বিশেষ করে মধুতে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান আছে। এটি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাছাড়া মধু খাওয়ার ফলে রক্ত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।মধুতে থাকা উপাদান রক্ত উত্তপাদনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। মধুতে রক্তের উপাদান সমূহ কে (আর বি সি, ডব্লু বি সি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।

আরো পড়ুন রোজা রেখে পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা https://www.sbdfoodtips.xyz/2023/03/Benefits-of-eating-ripe-bananas-during-fasting.html

(৩) দাঁত পরিষ্কার রাখে

এটি দাঁত পরিষ্কার রাখে এবং দাঁত শক্তিশালী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এবং যাদের দৃষ্টি শক্তি কম তাদের ক্ষেত্রে এটি খুব উপকারী একটি খাবার। এটি মানুষের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।

(৪) স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি করে

অনেকেই আছে যাদের স্মরণ শক্তি অত্যন্ত দুর্বল।কোন কিছুই মনে রাখতে পারে না। অল্প সময়ের ভিতরে ভুলে যায়। তো তাদের এইসব সমস্যা সমাধানের জন্য মধু একটি মহা ওষুধ হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত মধু সেবন করার ফলে মানুষের এই সমস্যাটা সমাধান হয়ে যাবে।

(৫) ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা যা শরীরের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত আঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে ।এবং শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে ।যাতে করে শরীরে কোন রোগ জীবাণুর বাসা বাঁধতে না পারে। তাছাড়া এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে রাস করে। এবং শরীরের ফ্রিরেডিকেলের রক্ষা করে। এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার যা নিয়মিত খাওয়া উচিত।

(৬) ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে

যারা মধু খায় নিয়ম করে তাদের শরীরের ত্বক এবং উজ্জ্বলতা সর্বদা বাড়তেই থাকে। এবং শরীরে বার্ধক্য অনেক দেরিতে আসে। মধু এবং কালিজিরা যদি একসাথে খাওয়া হয় তাহলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে শরীরের রক্ত বৃদ্ধি পায় ।এবং আমরা সবাই জানি শরীরের রক্ত বৃদ্ধি পেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং সবদিক থেকে শরীরের উপকার হয়। সেই সাথে শরীরের ত্বক এর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ।এবং সেই সাথে যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন বিশেষ করে মহিলারা তাদের জন্য নিয়মিত মধুসেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।

(৭) পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে

আন্ত্রিক রোগ উপকারী এই মধু ।এটি কে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলী বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে পাকস্থলীর যে কোন সমস্যা বদ হজম অথবা অন্য কোন সমস্যা এটি সহজে নিরাময় করে। তাছাড়া আলসার ও গ্যাস্ট্রিক এর দারুন উপকার করে মধু। নিয়মিত মধু সেবন করলে গ্যাস্ট্রিকের হার অনেক অংশে কমে যায়।সেই সাথে মধুতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ থাকায় মধু স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের বিশাল উপকার করে থাকে।

(৮) গালে ঘা বা ক্ষত নিরাময় করে

যাদের গালের ভিতরে ঘা হয় রক্ত বের হয় তাদের ক্ষেত্রে মধু অত্যন্ত উপকারী একটি ওষুধ। নিয়মিত মধু সেবন করার ফলে তাদের এই সমস্যাটা সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া শরীরে বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে মধু সহায়ক হিসেবে কাজ করে ও উষ্ণতা বৃদ্ধি করে।

মধু খাওয়ার নিয়ম

মধু বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যায়। এক এক পদ্ধতিতে খাওয়ার ফলে এক এক ধরনের উপকারিতা পাওয়া যায়। অনেকে আছে খালি পেটে মধু খেয়ে থাকে। খালি পেটে  এক চা চামচ মধু খাওয়া যেতে পারে। অথবা কুসুম গরম আধা গ্লাস পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে চাইলে লেবুর রস সাথে দিয়েও খেতে পারেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য রক্তশূন্যতা ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অনেকে মধুর সাথে কালিজিরা মিশিয়ে খেয়ে থাকে। এটিও অনেক উপকারী। তাছাড়া মধুর সাথে রসুন, লেবু, আদা,ইত্যাদি দিয়েও অনেকে খেয়ে থাকে। 

মধুর অপকারিতা

সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মধুর তেমন কোন ক্ষতিকারক দিক অথবা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। তবে এটিকে সর্বদা পরিমাণ মতো খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত মাত্রায় মধু খাওয়ার ফলে শরীরে অস্থিরতা বা জ্বালা ভাব দেখা দিতে পারে। আবার অনেকে আছে মধু খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা দেয়। তাদের ক্ষেত্রে মধু না খাওয়াটাই ভালো। তবে সবসময় এটি মনে রাখা উচিত, মধু একটি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন খাবার যা পরিমাণ মতোই আহার করতে হবে।

Disclaimer

এছাড়াও আরো হাজারো উপকারী গুণ রয়েছে মধু এর ভিতরে। তবে একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত হারে মধু সেবন করা যাবে না, এতে করে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এবং এটি সেবন করে রোদে না যাওয়াটাই ভালো।তো বন্ধুরা আজকের পোস্ট এই পর্যন্তই ।আশা করি মধু সম্পর্কে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ।কথা হবে পরবর্তী পোস্টে সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।ধন্যবাদ সবাইকে।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement