পাকাকলা খাওয়ার গুনাগুন! Benefits of eating bananas!

পাকা কলা কেন খাবেন? জেনে নিন পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা!



পাকা কলা, যা আমাদের সবারই খুব পছন্দের একটি খাবার। বাংলাদেশের সর্বত্র অঞ্চলে এটি জন্মাতে দেখা যায়। তবে বিশেষ করে মিষ্টি এলাকাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পাকা কলা চাষ করা হয়। পাকা কলা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর। এতে রয়েছে হাজারো প্রকারের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। যা একজন মানুষকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান বহন করে।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা পাকা কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানব!

হৃদ যন্ত্রের যত্ন নিয়ে থাকে পাকা কলা। কেননা পাকা কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। আর আমরা তো সবাই জানি পটাশিয়াম শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য। প্রতিদিন নিয়ম করে একটা বা দুটো পাকা কলা খেলে আপনার হৃদযন্ত্র সচল ও স্বাভাবিক থাকবে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে অনেকাংশে। তাই প্রত্যেকেরই কমবেশি নিয়মিত পাকা কলা খাওয়া উচিত।

কিডনি সুস্থ রাখতে পাকা কলার কোন বিকল্প নেই। এতে থাকা পটাশিয়াম কিডনির ও উপকার করে থাকে, এবং সেই সাথে ইউরিনে ক্যালসিয়াম জমা হতে বাধা সৃষ্টি করে থাকে। যে কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আর সে জন্যই শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম বরাদ্দ থাকে। যেটা শরীরে হাড় গঠনে ও মজবুত হতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

নিয়মিত পাকা কলা খাওয়ার ফলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে। কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা এবং স্যালুবল ফাইবার। যা আস্তে আস্তে হলেও দৃঢ় শক্তির যোগান দেয় শরীরে। এজন্যই যারা অধিক পরিমাণে পরিশ্রম করে অথবা যারা খেলাধুলা করে তাদের পরিশ্রম করার সময় কলা খেতে দেওয়া হয়।

শরীরে খাবার হজম করতেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পাকা কলা। কলার ভিতরে থাকা ফাইবার এবং প্রবায়োটিকঅলি গোসাকারাইজ হজম শক্তিতে দারুন কাজ করে থাকে। যে কারণে আপনার শরীরে আরো বেশি পরিমাণে পুষ্টি সঞ্চয় হতে থাকে। এবং কোষ্ঠকানিষ্ঠ দূর করে ।যাদের হজম শক্তিতে দুর্বল এবং শরীরে কষ্টকানিষ্ট বাসা বেধেছে তারা পাকা কলা খেতে পারেন বেশি করে। এতে আপনার এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

পাকা কলা খাওয়ার ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় দ্বিগুণ হারে। কেননা কলার ভিতরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন । যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এনিমো এসিড সৃষ্টি করে থাকে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে। সুতরাং আমাদের শরীরের সর্বশ্রেষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করার জন্য কলার বিকল্প আর কিছু নেই।

যাদের পাকস্থলীতে আলসার রোগে ভুগছেন কিংবা বুকে জ্বালাপোড়া থেকে কোনভাবেই মুক্তি পাচ্ছেন না, তাদের জন্য পাকা কলা একটি উৎকৃষ্ট খাবার। কলা প্রটেক্টিভ মিউকার লেয়ার বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পাকস্থলীতে একপ্রকার পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে। যেটা আপনার শরীরের জ্বালাপোড়া ও পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে রক্ষা করে। তাই যাদের এই সমস্যাটি আছে তারা অবশ্যই বেশি পরিমাণে পাকা কলা খেতে পারেন। আশা করি অবশ্যই আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

আরো পড়ুন দারুচিনি এর উপকারিতা সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/06/benefits-and-disadvantages-of-cinnamon.html

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সম্প্রতি একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে অতিরিক্ত পাকা কলা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিএনএফ-এ নামক  এক ধরনের যৌগ পদার্থ সরবরাহ করে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করে। সেই সাথে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়াতে থাকে। এতে করে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় অনেকাংশে । শুধু তাই নয় এটি মানসিক চাপ ও সুনিদ্রা তে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ কলাতে রয়েছে একপ্রকার টিপটোফেন নামক অ্যাসিড, যা সেরোটোনিনে পরিবর্তিত হয়ে থাকে আর সেরটোনিন শরীরের সঠিক মাত্রায় থাকলে আপনার মন মানসিকতা বা মুড ভালো থাকে এবং মানসিক চাপও কমায়। যে কারণে আপনার ঘুম ও ভালো হবে। তাই যারা অনিদ্রায় বা বেশি টেনশন করেন তাদের পক্ষে কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। বিশেষ করে পাকা কলা বেশি বেশি করে খাওয়ার ফলে আপনার এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

শরীরে উজ্জ্বলতা বাড়ায় এই পাকা কলা। কলার চামড়া কিছু পরিমাণে ফ্যাটি উপাদান থাকে, যা ত্বকে ঘষলে ময়েশ্চারাইজারের মত কাজ করে থাকে। আবার ব্রণ দূর করার জন্য কলার খোসা ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের ত্বকের জন্য তা কাজ না করতেও পারে। তবে এক্ষেত্রে ব্যবহার করে দেখাটাই শ্রেষ্ঠ। তবে এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নাই। এছাড়াও কলা শরীরের জন্য আরো অনেক উপকার করে থাকে। মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখতে পাকা কলা অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার । শুধু মস্তিষ্ক নয় শরীর ঠান্ডা ও পানির অভাব পূরণ করতেও কলা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে। এর ফলে শরীরে বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মোট কথা এটা বলা যায় যে, পাকা কলা খুবই উপকারী এবং পুষ্টিকর একটি ফল। যেটি ছোট বড় সবাই খেতে পারেন । শরীর সুস্থ রাখতে খাবারের মেনুতে প্রতিদিন এটি রাখতে পারেন।

তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের পাকা কলা সম্পর্কে প্রতিবেদন। আশা করি লেখাটি ভালো লাগছে। প্রতিবেদনটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। নিয়মিত শরীরের যত্ন নিন। পুষ্টিকর খাবার খান।

 ধন্যবাদ সবাইকে


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement