জেনেনিন ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন!
ড্রাগন ফল যা আমাদের সবার খুবই পরিচিত এবং সুস্বাদু একটা ফল। বাংলাদেশের সবখানেই এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে ।কিন্তু প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, এটি সব এলাকাতে চাষ করা সম্ভব হয় না। ড্রাগন ফলে রয়েছে হাজারো পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা। যা এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না। এজন্যই এ ফল অত্যন্ত দামি এবং অমূল্য ফল হিসেবে ধরা হয়।
আমাদের আজকের প্রতিবেদনে, আমরা জানবো ড্রাগন ফল কেন খাবেন? এটি খাওয়ার ফলে কি হয়? এবং এই ফলটি কেন এত দামি?
ড্রাগন ফল এমনই একটি ফল যা হাই্লসেরিয়াম নামক ক্রিমবিং ক্যাকটাসে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যা আপনি গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে পেতে পারেন। এই ফলটি দুটি জাতের হয়ে থাকে। লাল এবং হলুদ রং বিশিষ্ট। দক্ষিণ মেক্সিকো ও দক্ষিণ মধ্য আমেরিকায় বেশি পরিমাণে বেড়ে ওঠে। তবে উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ফরাসিরা এই ফলটিকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় নিয়ে আসে। এই ফলটি খেতে কিছুটা মিষ্টি স্বাদের এবং রসালো হয়ে থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও ভিটামিন সমৃদ্ধ এই ফল মানুষের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার। এটি আপনার শরীরের বিভিন্ন প্রকার সমস্যার থেকে মুক্তি দিতে পারে।
চলুন এক নজরে দেখে নিই ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ!
ফ্রি রেডিক্যাল হল অস্থির একপ্রকার অনু, যা আমাদের শরীরের কোষের ক্ষতি সাধন করে থাকে এবং প্রদাহ জনিত রোগের কারণ ও হয়ে থাকে। আর এটি মোকাবেলা বা প্রতিরোধ করার একটিমাত্র উপায় হলো ড্রাগন ফল। কারণ এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা এই ফ্রী রেডিক্যাল টিকে প্রতিরোধ করে। তাছাড়া এই ফলের ভিতরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসহ, আর্থিক বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধ সহায়তা করে থাকে।পরিক্ষায় প্রমানিত যে কয়েকটি তাজা ফলের ভিতরে আয়রন পাওয়া যায়, তার ভিতরে ড্রাগন ফল এক নাম্বারে রয়েছে। ড্রাগন ফলের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। আর আমরা তো সবাই জানি আয়রন শরীরের অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি বলা যায় যে অনেক মানুষ আছে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন পায় না অর্থাৎ তাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকে। যে কারণে বিভিন্ন প্রকার রোগ এর সম্মুখীন হতে হয়। তো যারা আয়রনের ঘাটতিবোধ করছেন তাদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী পুষ্টিকর একটি খাবার যেটা খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসা বিঙ্গানিদের একটা প্রতিবেদনে বলা করা হয়েছে যে, বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ৩০% আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, যা একদিক থেকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সাধারণ পুষ্টির ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সুতরাং আয়রন এর চাহিদা পূরণ করার জন্য ড্রাগন ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যান্য ফলের তুলনায় ড্রাগন ফলে ম্যাগনেসিয়াম এর পরিমাণও অনেক ক্ষারে বেশি থাকে। কেননা অন্যান্য ফলের তুলনায় ড্রাগন ফল মাত্র এক কাপ আপনার আরডিআই এর ১৮% গড়ে আপনার শরীরে ২৪ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে। দেখা দৃষ্টিতে এটি অল্প পরিমাণ হলেও খনিজটি আপনার প্রতিটি কোষে উপস্থিতি থাকে। এবং আপনার শরীরের মধ্যে প্রায় ৬০০ টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহের কারণে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় অনেকাংশে।
এই ফলটি শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করে। পরজীবী অথবা ভাইরাস সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ক্ষমতা বা শক্তি যোগান দেয়। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ক্যারোটিনয়েড। যেটা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরে শ্বেত রক্তকণিকাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। সুতরাং সংক্রমক রোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই ড্রাগন ফল। বিশেষ করে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমের শ্বেত রক্তকণিকা ক্ষতিকারক পদার্থকে ধ্বংস করে দেয়।
এছাড়াও এই ফলে রয়েছে প্রাকৃতিক চর্বিমুক্ত ও উচ্চ ফাইবার যুক্ত। যে কারণে এটি জলখাবার তৈরি করে। কারণ এটি আপনাকে খাবারের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও এটি ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে এটি মানুষের অগ্নাশয়ের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ গুলিকে প্রতিস্থাপন করে ইনসুলিন তৈরি করে দেয়। অর্থাৎ হরমোন যা আপনার শরীরের চিনি ভাঙতে সাহায্য করে। যে কারণে এটি ডায়াবেটিসের ও উপকার করে থাকে।
এবার জেনে নেয়া যাক এই ফলটি কেন এত দামি?
আমাদের দেশে হাটে বাজারে অনেক জায়গাতেই এই ফলটি বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে তুলনামূলক অন্যফলের থেকে এই ফল অনেকটা বেশি দামি। প্রথম অবস্থায় এটি দামি মনে হলেও এই ফলের উপকারিতার দিক থেকে এটি অনেক মূল্যবান। দাম বেশি হলেও এই ফলটি চাহিদা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এই ফলটি সম্পর্কে যারা জানে অথবা এই ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে যারা অবগত তারা একটু দাম বেশি হলেও এই ফলটি কিনে থাকে। আর এই ফলটির দাম বৃদ্ধির কারণ হলো এই ফলটির চাহিদা তুলনায় উৎপাদন অনেকাংশে কম। বাংলাদেশের সব এলাকাতে এটি উৎপাদন হয় না। কিছু কিছু এলাকাতে এটি চাষ করা হয়ে থাকে। কিন্তু যে পরিমাণে চাষ করা হয় তার থেকে এই ফলের চাহিদা অনেক গুণ বেশি। এবং এই ফলের হাজারো পুষ্টি গুণের কারণে এই ফলটির চাহিদা সব জায়গাতেই বেশি হওয়ার কারণে এই ফলটা অনেক দামি। তো বন্ধুরা বুঝতেই পারছেন এই ফলটি কেন এত বেশি দামি। মানুষ এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে কিনে খেয়ে থাকে। চাইলে আপনিও কিনে খেতে পারেন এই ফলটি। এতে করে আপনি যেমন এই ফলে সমৃদ্ধ সকল পুষ্টি গুণ পেয়ে থাকবেন তেমনি এই ফলের সুস্বাদু স্বাদ টিও উপভোগ করতে পারবেন।
আরো পড়ুন পাকা কলা সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/07/Benefits of eating bananas.html
বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের ড্রাগন ফল সম্পর্কে প্রতিবেদন। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগছে। এবং একটু হলেও ড্রাগন ফল সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এই ফলটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আপনার কমেন্টের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব। এতক্ষণ কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে কোন একটা প্রতিবেদন নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

