ঘরোয়া উপায়ে ডেঙ্গু জ্বর চিকিৎসা করুন!
আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে ডেঙ্গু জ্বরের ও প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন যে হারে বেড়ে চলছে, সেই তুলনায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণেই অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। আজকে আমরা আলোচনা করব ঘরোয়া উপায় কিভাবে ডেঙ্গু চিকিৎসা করা যায়। অথবা ডেঙ্গু প্রতিরোধ করনীয়।।
ডেঙ্গু জ্বর কি?
ডেঙ্গু জ্বর একটি মশা বাহিত রোগ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি বেড়ে যায়। কারণ জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করে থাকে। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা বৃষ্টির জলে এই মশা বংশবিস্তার করে এবং ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ফলে মানুষের এই রোগ হয়ে থাকে।
ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত রোগের লক্ষণ!
জ্বর হলেই যে ডেঙ্গু জ্বর হবে তার কোন মানে নেই। তবে অন্য স্বাভাবিক জ্বরের থেকে ডেঙ্গু জ্বর খুবই মারাত্মক এবং ভয়াবহ। যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, মাথা ব্যাথা, চোখের পিছনে ব্যথা, ক্লান্তি, অবসাদ, প্রত্যেকটা জয়েন্টে ব্যথা, ত্বকে বিভিন্ন প্রকার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এবং বমি বমি ভাব আসে। এসব লক্ষণ যদি কোন রোগীর ভেতর লক্ষ্য করা হয় তাহলে বিলম্ব না করেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন ।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডেঙ্গু চিকিৎসা!
ডেঙ্গু জ্বরের প্রথম দিকে কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সঠিকভাবে চিকিৎসা করতে না পারলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জেনে নিন তেমনি কিছু প্রতিকার সম্পর্কে। যা আপনাকে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
গিলয়ের রস
প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও ডেঙ্গু জ্বরের সুপরিচিত প্রতিকার হিসেবে গিলয় এর রস খুবই পরিচিত। কারণ এটি বিপাক ক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি করে। যা ডেঙ্গু জ্বরের বিরুদ্ধে কার্যকর ভাবে শরীরের লড়াই করতে সক্ষমতা সৃষ্টি করে। এটি শরীরে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়িয়ে রোগীকে স্বস্তি প্রদান করে। পরিমাণ মতো পানি নিয়ে গিলায়ের দুটি ছোট কান্ড সেদ্ধ করে ওই পানি পান করতে হবে। অথবা এক কাপ পানিতে কয়েকফোঁটা গিলায়ের রস মিশ্রিত করে দিনে দুইবার সেবন করতে পারেন। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে গিলায়ের রস বেশি পান করা ঠিক না। এটি পরিমাণ মতো পান করায় সঠিক উপকার দিবে।
পেঁপে পাতার রস খাওয়া!
ডেঙ্গু রোগীদের প্লেটলেটের পরিমাণ অনেকাংশে কমে যায়। এবং খুব অল্প সময়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে পেঁপে পাতার রস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পাতার রস সেবন করার মাধ্যমে শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই পাতার রস শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ডেঙ্গু চিকিৎসায়ক বিশেষ সাহায্য করে থাকে। সুতরাং যারা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে সবেমাত্র, তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে পাতার রস সেবন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কয়েকটি পেপে পাতা নিন এবং পিষে রস বের করুন। এবং এটি ছেঁকে পরিষ্কার করে সেবন করুন। ভালো ফলাফলের জন্য দিনে দুইবার অল্প পরিমাণে এই পেঁপে পাতার রস পান করতে পারেন।
তাজা পেয়ারার রস!
তাজা পেয়ারার রস হাজারো পুষ্টি গুনে ভরা। বিশেষ করে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় আপনার খাদ্য তালিকায় এই তাজা পেয়ারা রস রাখতে পারেন । পেয়ারার রস সেবন করার মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সেই সাথে শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকবে ।এছাড়াও পেয়ারার রস আপনাকে অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা ও প্রদান করবে। এক কাপ পেয়ারার রস করে দিনে দুইবার পান করতে পারেন অথবা জুস তৈরি করেও খেতে পারেন।
মেথি!
আমরা তো সবাই জানি মেথি একটি আয়ুর্বেদিক পুষ্টিগুণে ভরা। এটি ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভাবে কাজ করে থাকে। এক কাপ গরম পানিতে অল্প পরিমাণে মেথির বীজ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পানি ঠান্ডা করে সেই পানি দিনে দুইবার পান করতে পারেন। এটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করবে।
আরো পড়ুন Benefits of thankuni leaves.থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে https://www.sbdfoodtips.xyz/2021/12/benefits-of-thankuni-leaves.html
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে করণীয়!
আমরা তো সবাই জানি শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেম শক্তিশালী হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে শুধু ডেঙ্গু নয় অনেক প্রকার রোগ আছে যেগুলো শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না । অথবা আক্রমণ করতে পারে না। তাই শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে পারলে শরীরে এইসব উপসর্গ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেম শক্তিশালী করার জন্য অবশ্যই ডায়েটে সাইটট্রাস্ট জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। যেমন রসুন, বাদাম, হলুদ, সহ আরো পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ কিছু কিছু খাবার প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে যোগ করতে হবে।
এছাড়াও যদি কেউ ডেঙ্গুর উপসর্গ লক্ষ্য করেন তাহলে দ্রুত পরীক্ষণ ও চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রে যেতে হবে। এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে। সাথে এই প্রতিকারগুলো আপনাকে দ্রুত সুস্থ হতে অনেক কার্যকর হবে। আর একটা কথা বলা বাহুল্য যে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ঘরে বসে ঘরোয়া প্রতিকার অনেকদিন ধরে করাটা ঠিক নয়। দুই থেকে তিন দিনের ভিতরে যদি উন্নতি না হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে ঘরোয়া ভাবেও চিকিৎসা করে উপশম পাওয়া যায়। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে ডেঙ্গু জ্বর থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব । আশা করি আপনারা ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে একটু হলেও বুঝতে পেরেছেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

