চোখ উঠায় সমস্যার সমাধান করুন!! ঘরে বসে যেভাবে চোখ ওঠা সমস্যার সমাধান করবেন!
চোখ ওঠা সমস্যা বর্তমানে আমাদের দেশে একটি মারাত্মক ভয়াবহ রোগ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় এই রোগটি বেশি দেখা যায়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করে বেড়ে যায় চোখ ওঠার সমস্যা। আজকাল প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেখা যায় দুই একজন করে চোখ ওঠার রোগে আক্রান্ত রোগি। মানছে না তেমন কোন স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ করে গরমে ও বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। কনজাংটিভ ভাইরাস নামের একপ্রকার ভাইরাসের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। এবং এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
চোখ ওঠার কারণ কী! কি কারনে মানুষের চোখ ওঠার রোগটি হয়ে থাকে? চোখ ওঠার লক্ষণ!
চোখ ওঠা সমস্যায় চোখ লাল হয়ে যায়। চোখে ব্যথা অনুভূত হয় এবং চোখ খসখসে মনে হয়। চোখ ওঠার প্রধান কারণ হতে পারে ভাইরাসজনিত। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যখন ঋতু পরিবর্তন হয়। খুব গরম পরে অথবা খুব ঠান্ডা পড়ে। একটা আবহাওয়া থেকে অন্য একটা আবহাওয়ায় রূপান্তরিত হওয়ার সময় এই রোগটা বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথম অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। পাশাপাশি কিছু পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যাতে সমস্যা থেকে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়।
চোখ ওঠা সমস্যায় কি কি করনীয়?চোখ ওঠা রোগের চিকিৎসা!
প্রথমে চোখ উঠলে চোখ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে পরিষ্কার জল দিয়ে বারবার ধুয়ে নিতে হবে। এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কিছু কিছু খাবার আছে যে খাবারগুলো খেলে এই রোগের বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। যেমন আমলকি, কিসমিস, বিট লবণ, ত্রিফলা, মধু, ঘি ইত্যাদি। এসব খাবার এই রোগের জন্য অত্যন্ত উপকারী।চলুন দেখেনি খাবারগুলো কিভাবে চোখের উপকার করে?
(১) আমলকি
আমলকি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। যা মুখের স্বাদ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। চোখ ওঠা থেকে শুরু করে চোখের রেটিনার কোষ ঠিক করা সবকিছু এই ফল খাওয়ার ফলে ঠিক হতে পারে। শুধু এই নয়, চোখের যে কোন সমস্যায় আমলকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং নিয়মিত আমলকি খেলে আপনি সবসময়ই উপকার পাবেন।
(২) কিসমিস
কিসমিসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে পলিফেনাল। যা মানুষের শরীরের ফ্রি রেডিকেল দূর করতে সাহায্য করে। সেই সাথে এটি চোখের মাসেলের উন্নতি করে থাকে। চোখ ভালো রাখতে চাইলে নিয়মিত কিসমিস খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। রাতে কিসমিস ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি খাওয়াটাও অনেক উপকারী।
(৩) বিট লবণ
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে চোখ ভালো রাখার ক্ষেত্রে বিট লবণ বিশেষভাবে কাজ করে থাকে। বিট লবণ খাওয়া চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ বিট লবনে থাকা এমন কিছু উপাদান যা চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। অতএব যাদের চোখ ওঠায় সমস্যা হয়েছে তাদের খাবারের মেনুতে বিট লবনও যোগ করতে পারেন। তবে বিট লবণ অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত লবণ সর্বদাই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।
আরো পড়ুন কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম! https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/07/benefits-of-eating-blackberries-and.html
(৪) ত্রিফলা
ত্রিফলা অর্থ তিন ফলের মিশ্রণ । অতএব আমলকি, হরিতকি এবং বহেড়া। আমরা সবাই জানি এই তিনটি ফল ভেজষ গুন সমৃদ্ধ ফল। যা বিভিন্ন রোগের কার্যকরী ঔষধ হিসেবে কাজ করে। ত্রিফলার সাথে সমপরিমাণ মধু এবং ঘি মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে ত্রিফলা চূর্ণ করে বেশিদিন রেখে খাওয়াটা ঠিক নয়।
(৫) মধু এবং ঘি
মধু অথবা ঘি এর স্বাধ পছন্দ করে না এমন লোক খুব কমই আছে। চোখ ওঠার সমস্যায় এই খাবার দুটো অত্যন্ত দ্রুত কাজ করে থাকে। এক কথায় বলা যায় চোখ ওঠার সমস্যা এই দুটি খাবার ভীষণ উপকারী। আমরা সবাই জানি মধুতে থাকে অনেক প্রকার ভিটামিন ও মিনারেল। যা চোখ দ্রুত সুস্থ রাখার কাজ করে। সেই সাথে ঘিতে ও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যা দ্বারা আপনার চোখ ওঠা সমস্যা সমাধান হতে পারে।
Disclaimer
আশা করি বুঝতে পারছেন চোখ ওঠা রোগের কারণ কি? এবং এই রোগে আক্রান্ত হলে কি কি করণীয়। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এবং এতক্ষণ ধরে কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

