পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান!General knowledge about Padma Bridge. Know about Padma multipurpose bridge at a glance!

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান। এক নজরে পদ্মা বহুমুখী সেতু সম্পর্কে জেনে নিন!
https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/09/general-knowledge-about-padma-bridge.html

পদ্মা সেতু যার সরকারি নাম পদ্মা বহুমুখী সেতু। বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং গৌরবের স্বর্ণ শিখরে যার অবদান। বাংলাদেশ নয় বিশ্বের প্রতিটি দেশের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পদ্মা বহুমুখী সেতু। পদ্মা নদীর উপর নির্মিত এই সড়ক ও সেতুটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। অর্থাৎ সব থেকে বড় সেতু। যার উদ্বোধন করা হয় ২৫ জুন ২০২২ তারিখে, এবং ২৬ শে জুন ২০২২ তারিখে সেখানে যান চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।

২০০১ সালের ৪ই জুলাই মাওয়া জাজিরা প্রান্তে সর্বপ্রথম পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৬ থেকে ২০০৭ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবং পরিকল্পনা মোতাবেক হাজারো প্রবণতা দুর্যোগ বাধ্যবাধকতা বন্দী পেরিয়ে ২৫ জুন ২০২২ তারিখে পদ্মা বহুমুখী সেতুটি উদ্ভাবন করেন।

 তো বন্ধুরা আজ আমরা এই পদ্মা সেতু সম্পর্কে আলোচনা করব। এবং বর্তমানে দেখা যায় যে কোন চাকরি ভাইবা অথবা রিটেন পরীক্ষায় পদ্মা সেতু সম্পর্কে অনেক প্রশ্নই কমন পড়ে। তাই আমাদের এই পদ্মা সেতুর সম্পর্কে ভালোভাবে অধ্যায়ন করা উচিত। যাতে আমরা বুঝতে পারি পদ্মা সেতুর প্রকল্প সম্পর্কে।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান!

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাম পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। পদ্মা সেতু প্রকল্প নকশা কারী প্রতিষ্ঠানের নাম (AECOM)। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী শাসনের কাজ করেছিলেন সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড কোম্পানি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদী শাসন করা হয়েছিল ১৪ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট জমির অগ্রাধিকার করা হয়েছিল ২৫৪১ দশমিক ৭৯ হেক্টর জমি। এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কাজে নিয়োজিত রয়েছেন কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। পদ্মা বহুমুখী সেতুর ফলে দেশের সার্বিক জিডিপি ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ  পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ২.৩ শতাংশ যা অর্থনৈতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এবং এই সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ১৯ টি জেলাকে সংযুক্ত করবে। এই সেতুর ভৌত কাজকে মূলত ৫ টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছিল। এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার অর্থাৎ এই সেতুটি ৬.১৫ কিলোমিটার লম্বা এই সেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২ টি এবং পানের সংখ্যা ৪১ টি।

 পদ্মা সেতুর মোট দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ হল ১৬.১৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ ২০,২০০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ দশমিক দশ মিটার অর্থাৎ ৫৯.৪ ফুট। এই সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে ১৪ কিলোমিটার করে। এটি বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এই সেতুর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংগের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারিপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আগে নদী থাকার জন্য যাতায়াতের নদীপথ ব্যবহার করতে হতো এখন সরাসরি ব্রিজের মাধ্যমে দুই পাড়ের জেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পদ্মা সেতু পৃথিবীর অসংখ্য সেতুর ভিতরে দৈর্ঘ্যের দিক বিবেচনায় ১২২ তম সেতু। এই সেতুর দুই প্রান্তের জেলার নাম হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। এই সেতুর মোট বাজেট ছিল ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।  যে বাজেট বাংলাদেশ সরকার অন্য দেশের সাহায্য না নিয়ে নিজস্ব সম্পদ থেকেই অর্থায়ন করেছে। এই সেতুর প্রকল্পের নদী শাসন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ ০০০ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যার মূল সেতুতে ব্যয় হয়েছিল ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই  সেতুর উচ্চতা পানির স্তর থেকে ৬০ ফুট। পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর। এবং এই সেতুতে রেললাইন স্থাপন করা হবে নিচের তলায়। এই সেতুটি জনবল ছিল প্রায় ৪ হাজার এবং এর পাইলিং গভীরতা ছিল ৩৮৩ ফুট।

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/09/general-knowledge-about-padma-bridge.html

 

 প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং ছিল ছয়টি, তাহলে পদ্মা সেতুর মোট পাইলিং এর সংখ্যা ২৬৪ টি। পদ্মা সেতুর প্রকল্প চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি নাম ছিল চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। এই সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির পিলারের উপর। এবং এই সেতুর শেষ ১৪০ নম্বর স্প্যান বসানো হয়েছিল ১২ এবং ১৩ নম্বর খুঁটির উপর। এই সেতুর ৪১ টি স্প্যান বসাতে সময় লাগে মোট তিন বছর দুই মাস দশ দিন। এটি বাংলাদেশে বর্তমানে দীর্ঘতম সেতু। এর প্রতিটি স্প্যান এর ওজন ৩২ টন। এই সেতুর ক্ষমতা দৈনিক ৭৫০০০ যানবাহন চলাচল করতে পারবে । এই সেতুর আকৃতি ইংরেজি S অক্ষরের মতো।  এই সেতুর ভূমিকম্প সহনশীলতা রিক্টার স্কেলে ৯.১ মাত্রার কম্পন। এই সেতুর আয়ু কাল ধরা হয়েছে ১০০ বছর এবং এই সেতুর ব্যয় 35 বছর পর উঠে আসবে। প্রধানমন্ত্রী ২০০০ টাকা টোল দিয়ে এই সেতুতে উঠেছিলেন এবং যার ট্রানজেকশন নাম্বার ছিল 0.0001 তারিখ ছিল ২৫ শে জুন ২০২২ দুপুর ১২ টা ২৬ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড।

 আরো পড়ুন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং প্রশ্ন পদ্ধতি ২০২২ https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/09/teacher-registration-exam-preparation.html

বন্ধুরা আশা করি পদ্মা সেতু সম্পর্কে আপনারা অনেকটাই জানতে পেরেছেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। সেই সাথে এতক্ষণ কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement