সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এই কথাগুলো প্রতিদিন একবার হলেও বলুন!
প্রত্যেক বাবা-মার কাছে তার সন্তান সব থেকে বেশি প্রিয় হয়ে থাকে। নিজের চাইতেও বেশি ভালোবাসে তার সন্তানকে। এবং প্রত্যেক বাবা-মাই চায় তার সন্তান বেড়ে উঠুক একজন সফল এবং ভালো মানুষ হয়ে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায় প্রত্যেক বাবা-মা তার সন্তানকে। আর এজন্যই নিজের সন্তানের দেখাশোনার কোন ত্রুটি রাখতে চায় না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাবা-মার সামান্য কিছু ভুলের কারণে তার সন্তান খারাপ হয়ে যায়। শত চেষ্টা করার পরও তাকে পথে আনা সম্ভব হয় না। আজকে আমরা এমনই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। ছোটবেলা থেকেই যে কথাগুলো প্রত্যেক বাবা-মার তার সন্তানদেরকে বলা উচিত। যে কথাগুলোর উপর নির্ভর করে তার সন্তান বড় হবে।
বিশেষ এই কথাগুলো আপনার সন্তানের মনে ঢুকিয়ে দিলে জীবন চলার পথে আপনার সন্তান যে কোন সমস্যার মোকাবেলা খুব সহজেই করতে পারবে। জেনে নিন সেই বিশেষ কিছু কথা। যা আপনার সন্তানকে প্রতিদিন একবার হলেও বলা উচিত।
প্রত্যেক বাবা-মার তার সন্তানকে যে কথাগুলো বলা উচিত!
1/ আপনার সন্তানকে প্রতিদিন একবার হলেও বলুন তোমার উপর আমার বিশ্বাস আছে। তাকে বিশ্বাস করে ছোটখাটো কিছু কাজ অথবা দায়িত্ব পালন করতে দিন। এতে আপনার সন্তানের নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এবং সে আপনাকে আরো বেশি ভালবাসবে। তার করা প্রত্যেকটা দায়িত্বের প্রশংসা করুন। কোন ভুল হলে তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন ।এতে যেমন তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে তেমনি আপনার প্রতিও সম্মান এবং শ্রদ্ধা দুটোই বৃদ্ধি পাবে।
2/ আপনার সন্তানকে সব সময় ধৈর্যশীল হওয়ার কথা বলুন। যেন প্রতিকূল অবস্থাতেও সে হাল ছেড়ে না দেয়। প্রতিটি কাজেই তাকে উৎসাহ দিন। এবং হতাশায় যেন সে হাল ছেড়ে না দেয় সেই পরামর্শ দিন তাকে। এটি বোঝানোর চেষ্টা করুন যে ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে সফলতা অবশ্যই একদিন ধরা দিবে । এতে আপনার সন্তান যেমন প্রতিটা কাজের প্রতি একাগ্রতা আসবে তেমনি সে মন থেকেই আত্মবিশ্বাসী এবং ধৈর্যশীল হবে। আর এটি তার জীবন গড়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে সারা জীবনের জন্য।
আরো পড়ুন হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনে যে খাবারগুলো! https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/foods-that-control-high-pressure.html
3/ কোন বিষয়ে আটকে গেলে বা না পারলে তাকে বকাঝকা বা ঝগড়া করবেন না। তাকে অবশ্যই উৎসাহ দিবেন যাতে আটকে থাকা বিষয়টি সম্পর্কে নতুন উদ্যমে সে অধ্যায়ন করতে পারে। তাকে এটি বোঝান যে বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে সে পারফেক্ট হতে পারবে। যেখানে সমস্যা আছে সেখানে সমাধানের পথ আছে। শুধু সেই পথ খুঁজে নিতে হবে।
4/ প্রতিটা সফল ব্যক্তি অথবা এক্সপার্ট মানুষ একসময় আনাড়ি ছিল। এই কথাটি আপনার সন্তানকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিন। যাতে সেও একদিন আনাড়ি থেকে এক্সপার্ট মানুষ হয়ে ওঠার সাহস পায়। একদিনে কিছু হয় না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা দিয়েই একটা বিশাল ইমারত তৈরি করা হয়। এটি আপনার সন্তানের ভিতর অনুধাবন করান। অবশ্যই সে তার কাজের প্রতি উৎসাহী হবে।
5 তাকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করুন। জীবনে চলার পথে বারবার ব্যর্থতা আসতে পারে। ব্যর্থতা কোন অপরাধ নয় ।তবে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসাটাই অপরাধ ।তাই জীবনে বার বার ব্যর্থ হওয়ার পরও যেন তার কর্ম থেকে পিছিয়ে না আসে ।আপনার সন্তানকে এই পরামর্শ দিন।
6 প্রতিটা মানুষের জীবনেই মাঝে মাঝে খারাপ সময় আসে। আর এই খারাপ সময় টাই মানুষ ভেঙ্গে পড়ে জীবনের অনেক বড় বড় ক্ষতি করে ফেলে। আপনার সন্তান কে এই শিক্ষা দিন যাতে খারাপ সময় যেন ভেঙে না পড়ে। বরং খারাপ সময় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সেই শিক্ষাটা ভালো সময় কাজে লাগাতে পারে। তাকে উৎসাহিত করুন খারাপ সময় নিজেকে স্থির রেখে এবং নিজেকে ভালবাসতে।
7/ পরিবারই সবচাইতে নিরাপদ জায়গা একটা মানুষের জীবনে। তাই আপনার সন্তানকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করুন ।তার পরিবারের সে সবচাইতে নিরাপদ এবং এখানে সে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারে। স্বাধীনভাবে আপনার সন্তানকে আপনার পরিবার কতটা ভালোবাসে এই কথাটি তাকে জানিয়ে দিন। যাতে সে নিজেকে নিরাপদ ভাবে এবং এতে পরিবারের প্রতি তার ভালোবাসাও বাড়বে।
বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের প্রতিবেদন। আশাকরি এই কথাগুলোর মাধ্যমে আপনার সন্তানকে জীবনে একটি সুন্দর পথ দেখাতে পারবেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ ধরে কষ্ট করে এটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

