বাদাম কেন খাবেন? জেনেনিন বাদামের বহুমাত্রিক গুনাগুন!
অবসর সময় বা বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় বাদামের কোন জুড়ি নেই। সময় কাটাতে বাদাম খাওয়ার বিকল্প আর কিছু নেই বললেই চলে। আবার অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতায় নিয়মিত বাদাম খেয়ে থাকে। তবে যে কারণেই বাদাম খাওয়া হোক না কেন নিঃসন্দেহে বলা যায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাদামের রয়েছে বহুমাত্রিক পুষ্টি গুনাগুন। যা অনেকেই জানে না। আবার বাদামের প্রকারভেদ অনুযায়ী গুনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আমাদের আজকের আলোচনা এই বাদামের বহুমাত্রিক গুনাগুন সম্পর্কে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বাদামের বহুমাত্রিক গুনাগুন।
বাদামের বহুমাত্রিক উপকারিতা!
চিনাবাদাম
এই বাদাম দেখতে বেশ বড় হয়ে থাকে। এই প্রজাতির বাদামের ভেতর রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, সহ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, এবং ভিটামিন সি। যে কারণে এই বাদাম খেলে উপকারিতা অনেক বেশি পাওয়া যায়। প্রথমত এই বাদাম প্রোটিনের ভালো উৎস। অর্থাৎ এটি খাওয়ার ফলে শরীরে প্রোটিন এর অভাব পূরণ হয়। এছাড়াও খালি পেটে ভোরবেলায় বাদাম খেলে শরীরে এক্সট্রা এনার্জি পাওয়া যায়। প্রতিদিনই নিয়মিত পরিমাণে বাদাম খাওয়ার ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আখরোট
আখরোট একটি পুষ্টিকর সুস্বাদু খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ওমেগা ৩, ও ফ্যাটি এসিড সহ অনেক প্রকারের পুষ্টি উপাদান। আমরা তো সবাই জানি ক্যালসিয়াম শরীরে হাড় ও দাঁত শক্ত করে। এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ব্রেনের পুষ্টি যোগায়। সুতরাং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আখরোট ও রাখা যেতে পারে। অথবা অবসর সময়ে আপনি এটি খেতে পারেন।
পেস্তা বাদাম
পেস্তা বাদামের ভিতর রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, সহ অনেক প্রকারের ভিটামিন। যা শরীরের রক্ত শুদ্ধ করে এবং লিভার ও কিডনি ভালো রাখে। সুতরাং শরীরের এসব উপকার পাওয়ার জন্য অবশ্যই পেস্তা বাদাম নিয়ম করে খাওয়া যেতে পারে। পেস্তা বাদাম খেতে অনেক সুস্বাদু। বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় অথবা প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে আপনি এটি রাখতে পারেন।
আরো পড়ুন খাবার জন্য উৎকৃষ্ট মানের চাল চেনার উপায় https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/how-to-identify-best-quality-rice-for.html
কাজুবাদাম
কাজু বাদাম অনেকেরই প্রিয় খাবার। এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাজারে এর দামও অনেক বেশি। কাজুবাদামের মূল উপাদান গুলো হচ্ছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। নিয়মিত কাজুবাদাম খাওয়ার ফলে অ্যানিমিয়া নামক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শরীরের ত্বক উজ্জ্বল করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে কাজুবাদাম।
আলমন্ড
আলমন্ড ভিতর রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফলিক অ্যাসিড, এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। তাই এটিকে বাদামের রাজা বলেও আখ্যায়িত করা হয়। অর্থাৎ সব প্রকার বাদামের ভিতর এটি সবথেকে খেতে বেশি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। নিয়মিত আলমন্ড খাওয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট কোষ্ঠকানিষ্ঠ ও ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এবং সকল প্রকার বাদামের ভেতর আলমন্ডে সবথেকে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। নিয়মিত চার পাঁচটি আলমন্ড খেয়ে শরীরের এলডিএল কোলেস্টেরল বা ফ্যাট কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও এটি কোলন ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করে। আলমন্ডের ভিতরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা কেমোথেরাপি চলাকালে আলমন্ড মিল্ক খেলে ইমিউনিটি সিস্টেমের উন্নতি হয়। আলমন্ডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা শরীরের কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি কমাতে সাহায্য করে। ফলে এটি ডায়াবেটিসের ও উপকার করে। ডাইবেটিসের রোগীরা এটি নিঃসন্দেহে খেতে পারেন। এছাড়াও আলমন্ড বেটে পেস্ট এর মত করে নিয়মিত লাগালে বলিরেখার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন দেখবেন আস্তে আস্তে শরীরের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরে শক্তিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বন্ধুরা আমাদের আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। আশা করি বাদাম খাওয়ার বহুমাত্রিক গুনাগুন সম্পর্কে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ ধরে কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কথা হবে পরবর্তী পোস্টে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।

