হার না মানা সব ভেষজ গুনে সমৃদ্ধ অপরাজিতা ফুল, জেনেনিন অপরাজিতা ফুলের ঔষধি গুনাগুন!
নীল রঙের এই ফুলটি দেখতে অনেকটাই দীঘল চোখের পাপড়ির মত। এটি যেমন ফুলবাগানের শোভা বাড়ায়. তেমনি এতে রয়েছে হাজারো ঔষধি গুনাগুন। এই ফুলটি প্রায় সর্বত্রই জন্মায়। রাস্তার পাশে অথবা কোন ঝোঁপ-ঝাড়ের এটি জন্মাতে দেখা যায়। ফুলটি ছোট বড় সবারই খুব পছন্দের। তবে এটি শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না এর রয়েছে বেশ কিছু ঔষধি গুনাগুন। আমাদের আজকের পৌষ্টে এই অপরাজিতা সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।
অপরাজিতা ফুলের পরিচিতি
পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে যত সৌন্দর্য রয়েছে তার ভিতর ফুল অন্যতম। আর ফুলের ভিতর এক অনন্য ফুল হলো অপরাজিতা। এই ফুলটিকে আবার নীলকন্ঠ ফুল বলেও চেনা হয়। মূলত এই ফুলটি মালাক্কা দীপ বা টার্নেট থেকে সারা বিশ্বে বিস্তার লাভ করে। তবে স্থান ভেদে এই ফুলের নাম ও অনেক প্রকারের রয়েছে। ভারতের কেরালায় এই ফুলটিকে শঙ্খ পুষ্প বলে অভিহিত করা হয়। এই ফুলটি বেশ কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। সাদা, হালকা বেগুনি, হলুদ, লাল ও নীল রংয়ের অপরাজিতা ফুল দেখতে পাওয়া যায়।
ভেষস গুনে সমৃদ্ধ অপরাজিতা ফুল এর উপকারিতা
অবাক করা বিষয় হলো যে, এই ফুল শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না এর সাথে রয়েছে এই ফুলের লতাপাতা, শিকড়ের বেশ কিছু উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন। অপরাজিতা ফুলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মানব শরীরে ম্যাজিকের মত কাজ করে।চলুন তবে যেনে নেয়া যাক অপরাজিতা ফুলের উপকরিতা সম্পর্কে।
(১) লিভারের সুরক্ষা
অপরাজিতা দিয়ে তৈরি নীল চা (গ্রিন টি) পলিফেনাল ও ফ্লাভোনোয়েড যৌগ যেটি লিভারের এনজাইম এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। তাই অপরাজিতা লিভার সুরক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এজন্য প্রত্যেকটা মানুষের অবশ্যই অপরাজিতা ফুলের চা অথবা (গ্রিন টি) পান করা উচিত।
(২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
আমরা তো সবাই জানি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আর অবাক করা বিষয় হলো এটি অপরাজিতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে। যার ফলে ডায়াবেটিস ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। সুতরাং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অপরাজিতা বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে।
(৩) অ্যাজমা প্রতিরোধে
আমাদের আশেপাশে অনেককেই দেখা যায় অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। আর এই এজমা রোগীদের জন্য অপরাজিতা এক মহা ওষুধ হিসেবে কাজ করে। অপরাজিতায় থাকা স্যাপোনিন ও ফ্লাভোনোয়িড যৌগ অ্যাজমা প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই যাদের এই অ্যাজমার সমস্যা আছে তারা অবশ্যই অপরাজিতা ব্যবহার করতে পারেন।
আরো পড়ুন কমলালেবুর জাদুকরী কয়েকটি গুণ যা জানলে আপনিও অবাক হবেন https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/few-magical-properties-of-oranges-that.html
(৪) ক্যান্সার প্রতিরোধে অপরাজিতা
অপরাজিতা ফুলে রয়েছে এক প্রকার এন্থোসায়ামিন যা মানুষের শরীরের ফ্রী রেডিক্যাল তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকে। যার ফলে এটি ক্যান্সারের আশংখা কমায়। সুতরাং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই অপরাজিতা ফুল খাওয়া উচিত।
(৫) স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
যারা স্মৃতিশক্তিতে দুর্বল তারা অবশ্যই অপরাজিতা ব্যবহার করতে পারেন। কেননা অ্যালজাইমার এর মত রোগের চিকিৎসায় অপরাজিতা কে ব্যবহার করে থাকেন চিকিৎসকরা। এই ফুলের ভিতর রয়েছে স্মৃতিশক্তিবর্ধক এক প্রকার গুণ সুতরাং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অবশ্যই অপরাজিতা ব্যবহার করা যেতে পারে।
(৬) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
অপরাজিতা রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কোলেস্টেরল ও এল ডি এল এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। যে কারণে এটি হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতি রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। সুতরাং হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই অপরাজিতা ফুল বেছে নিতে পারেন।
এছাড়াও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অপরাজিতা ফুল সম্পর্কে আরো অনেক উপকারিতা আলোচনা করা হয়েছে। বয়সন্ধিকালীন উন্মাদ, গলগন্ড রোগ, ফোলা রোগ, ঘন ঘন প্রস্রাব স্বরভঙ্গি, শুষ্ক কাশি, আধকপালে ব্যথা ইত্যাদি রোগের ওষুধ হিসেবেও কাজ করে এই অপরাজিতা। অপরাজিতার ফুল, পাপড়ি, মূল, গাছের পাতা. কান্ড. ছাল, বিজ এসব ঔষধি গুনে ভরা।
Disclaimer
আবহাওয়া ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে এই ফুলটি ১২ মাস ফুঠলেও এটি মূলত বর্ষাকালীন একটি ফুল। বিশেষজ্ঞদের মতে এই ফুল এবং এর অন্যান্য উপাদান যেমন মূল, বিজ থেকে উপকার পেতে চাইলে অবশ্যই এর পরিমাণ এর ওপর নজর দেওয়া উচিত। অপরাজিতা ফুলের উপাদান দিয়ে তৈরি ওষুধ এক থেকে দুই চামচ এর বেশি কখনো সেবন করা উচিত নয়। কেননা বেশি পরিমাণে সেবন করার ফলে এটি শরীরে বিষের প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে।
বন্ধুরা আমাদের আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। আশা করি অপরাজিতা ফুলের ভেতর গুণ সম্পর্কে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন। এতক্ষণ ধরে লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

