পুষ্টিগুণে ভরা যে ফলগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে বিষ সমতুল্য! Nutrient-packed fruits are poison for diabetics.

পুষ্টিগুণে ভরা থাকলেও ডায়াবেটিস রোগীদের যে ফলগুলো কখনো খাওয়া উচিত নয়!

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/nutrient-packed-fruits-are-poison-for.html


ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার। প্রত্যেক মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিশেষ করে যেকোনো ধরনের ফল থাকা উচিত। মানুষের শরীরকে সুস্থ এবং সাবলীল রাখতে অবশ্যই বেশি করে ফল খাওয়া জরুরী। তবে কিছু ফল আছে, যা ডায়বেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খাওয়াটা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা এই ফলগুলো ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়তে পারে। আজকে আমাদের এই প্রতিবেদনে এই ফলগুলো সম্পর্কেই জানবো। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক যে ফলগুলো পুষ্টিগুণে ভরা থাকলেও  ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়া উচিত নয়।

ডায়াবেটিসের ডায়েটের সাধারণত সেই ফলগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে যে ফলগুলো খাওয়ার ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়ায় না। তবে সাধারণত বেশিরভাগ ফলই খেতে মিষ্টি হয়। এমতা অবস্থায় দেখা যায় কোন ফলে শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর সুগার থাকে, আবার কোনটিতে অস্বাস্থ্যকর সুগারও থাকে। তবে এখানে এমন কিছু ফলের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলি খাওয়ার ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়তে পারে। এবং যা খাওয়ার ফলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

যে ফলগুলি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাওয়া উচিত নয়!

আনারস

আনারস একটি বহুল পরিচিত সুস্বাদু ফল। এক টুকরো আনারস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় এতে চিনির পরিমাণ কতটা বেশি পরিমাণে রয়েছে। যে কারণে ডাক্তাররা ডায়াবেটিস রোগীদের আনারস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে ।চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে, এক কাপ আনারসে প্রায় ১৬ গ্রাম পর্যন্ত সুগার বা চিনি রয়েছে। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক বড় একটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের এই ফলটি না খাওয়াই ভালো।

https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/nutrient-packed-fruits-are-poison-for.html

 

চেরি

সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরা এই চেরি ফলে রয়েছে হাজারো উপকারিতা। হাটে বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে অনেক বেশি। তবে স্বদে অসাধারণ চেরি ফলটি খেতে অনেক সুস্বাদু হলেও, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে অনেকাংশে। ফলটি খেতে অনেক সুমিষ্ট। যে কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের এই ফলটি খাওয়ার ফলে শরীরে রক্তের শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে ।তাই ডায়াবেটিস রোগীদের এই ফলটি সর্বদাই এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

লিচু

লিচু একটি সহজলভ্য এবং সুমিষ্ট ফল। এটি সর্বত্রই কিনতে পাওয়া যায়। ছোট বড় সবারই পছন্দের এই ফলটি খেতে অনেক সুস্বাদু। তবে অবাক করা বিষয় হলো এটি, এক কাপ লিছুতে প্রায় 29 গ্রাম পর্যন্ত সুগার বা চিনি থাকে। যদিও লিচুর মতো ফলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাটা অনেক কঠিন। তবুও ডায়াবেটিকস রোগীদের এটি খাওয়া মোটেও উচিত নয়। এতে রয়েছে অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি ।

আরো পড়ুন বেশিরভাগ নারীদের যেসব পুষ্টি ঘাটতি দেখা দেয় https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/most-women-suffer-from-nutritional.html

ডুমুর

ডুমুর খুবই সুস্বাদু একটি ফল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। লিচুর মতো ডুমুরেও রয়েছে প্রায় 29 গ্রাম পর্যন্ত সুগার। এই পুষ্টিতে ভরপুর ফলটি শুধুমাত্র হাই সুগারের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের খেতে দেওয়া হয় না। তবে একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডুমুর খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। যাদের ডায়াবেটিস নাই তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই খাবারটি রাখতে পারেন। তবে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই ফলটি থেকে দূরে থাকা উচিত।

আম

আম সবারই খুব পছন্দনীয় একটি ফল। ছোট বড় সবাই এটি খেতে পছন্দ করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে আম খাওয়াটা রয়েছে অনেক বড় ঝুঁকি। তবে সামান্য পরিমাণে আম খেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল এক কাপ আমে প্রায় 23 গ্রাম পর্যন্ত সুগার পাওয়া যায়। আর এই কথাটি মাথায় রেখেই হাই ব্লাড সুগারের রোগীদের আম খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। অথবা অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত।

তবে একথা বলা যায় যে পরামর্শ অনুযায়ী এই লেখাগুলো শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য প্রদান করে থাকে। তবে এটি কখনো যোগ্য চিকিৎসার মতামতের বিকল্প তথ্য নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই কোন খাবার খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা যে ফলগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করেছি তার ভিতর অনেকাংশেই সুগারের মাত্রা লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের এই ফলগুলো থেকে যথাসাধ্য দূরে থাকাটাই ভালো।

বন্ধুরা আমাদের আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। আশা করি ডায়াবেটিস রোগীদের কোন ফল গুলো খাওয়া উচিত নয় সে সম্পর্কে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ ধরে কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Advertisement

Advertisement