রুক্ষ ও কোঁকড়া চুল সোজা করতে যা করণীয়, জেনে নিন কিভাবে সহজেই কোঁকড়া চুল সোজা করবেন!
চুল মানুষের শরীরের সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ। চুলবিহীন কোন মানুষকে সুন্দর দেখায় না। তাই সবাই কম বেশি চুলের যত্ন নিয়ে থাকে। চুলের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা হয়। চুল ওঠা, খুশকি সমস্যা, চুল পেকে যাওয়া সহ অনেক প্রকারের। আজকে আমাদের আলোচনা হল কোঁকড়া চুল কিভাবে সোজা করবেন সে সম্পর্কে। অনেকেরই আছে মাথার চুল প্রচুর পরিমাণে কোকড়ানো। যার কারণে এটি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা করে থাকে। অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চুলে ঠিকমতো স্টাইল দিতে পারে না। আমাদের আজকের পোস্টটি তাদের জন্য। যারা কোঁকড়ানো চুল সোজা করতে চান তারা অবশ্যই আজকের পোস্টটি পড়ুন। আশা করি আপনার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
সহজেই যেভাবে কোকড়ানো চুল সোজা করবেন
কোঁকড়ানো চুল সোজা করার জন্য অনেক পদ্ধতি রয়েছে। কেউ বিউটি পার্লারে গিয়ে চুলে হিট দিয়ে সোজা করে। আবার কেউবা বিভিন্ন রকম পদ্ধতি অবলম্বন করে চুলের সোজা করার চেষ্টা করে। তবে বেশিরভাগ পদ্ধতি গুলোই রয়েছে চুলের জন্য মারাত্মক সাইট ইফেক্ট।
তবে কোঁকড়া চুল সোজা করার একটি সহজ উপায় হলো চুলে মেয়োনিজ ব্যবহার করা। ভাজাপোড়া খাবারের সঙ্গে মেয়োনিজ খাওয়ার মজাটাই আলাদা। বিশেষ করে এই খাবারটি বাচ্চাদের খুবই প্রিয় হয়ে থাকে। তবে অবাক করা বিষয় হলো এটি যে ,মেয়োনিজ চুলের জন্য খুব উপকারী একটি উপাদান। রুক্ষ, সুক্ষ, ফ্রিজি, কোকড়ানো চুলকে স্ট্রেট করতে এই জিনিসটি খুবই কার্যকরী।
মেয়োনিজ তৈরিতে ব্যবহৃত তেল, ডিমের কুসুম, ভিনেগার অথবা লেবুর রস এসব উপাদান চুলের জন্য খুবই উপকারী ।আর এইসব উপকরণ দিয়েই তৈরি করা হয় মেয়োনিজ। যে কারণে চুলের যত্নের সব উপকরণই পাওয়া যায় এই মেয়োনিজের ভেতর। মেয়োনিজের সাথে আরও বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান মিশিয়ে আপনিও ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন আশ্চর্যজনক হেয়ার মাক্স । সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই বার মেয়োনিজ মাস্ক ব্যবহার করে আপনিও রুক্ষ চুলকে ঝলমলে ও সোজা করতে পারেন।
জেনে নিন চুলে মেয়োনিজ কিভাবে ব্যবহার করবেন!
মেয়োনিজ মাস্ক তৈরিতে প্রথমে যেটি করতে হবে তা হল দুইটি পাকা কলা দিয়ে সুন্দরভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর এর ভিতর দুই টেবিল চামচ মেয়োনিজ এবং এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণটাকে আবার ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর এটি ধীরে ধীরে মাথার চুল ভাগ করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সুন্দরভাবে লাগিয়ে নিন ।মেয়োনিজ ও কলার মাস্ক টি ৪৫ মিনিট মাথায় লাগিয়ে তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক নিস্তেজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুর্বল চুলকে খুব দ্রুতই ঝলমলেও কোমল করে তোলে।
মেয়োনিজ এর সাথে ডিম ও ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একটি পাত্রে দুটি ডিম ও ৫ টেবিল চামচ মেয়োনিজ ফেটিয়ে ক্রিম এর মত তৈরি করে নিতে হবে। এবং পূর্বের মতো এটি চুল ভাগ করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সুন্দরভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। তারপর একটি শাওয়ার ক্লাব দিয়ে চুল ঢেকে রাখতে হবে। এভাবে ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। মেয়োনিজ ও ডিমের এই মাস্কটি চুল সোজা ও সিল্কি করার পাশাপাশি চুল ভাঙাও রোধ করে। যাদের চুল ভেঙে যায় বা উঠে যায় তারা এই মাসটি ব্যবহার করতে পারেন।
আরো পড়ুন আপেল সাইডার ভিনেগার এর বিশেষত্ব https://www.sbdfoodtips.xyz/2022/10/specialty-of-apple-cider-vinegar.html
মেয়োনিজ ও নারকেল তেলের হেয়ার মাক্স খুবই কার্যকরী ফল দেয়। এই পুষ্টিকর হেয়ার মাস্কটি তৈরি করতে আপনাকে চার টেবিল চামচ মেয়োনিজ ও ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট এর মত করে নিতে হবে। এরপর এটি চুলে সুন্দরভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। লাগানোর 30 মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মাস্ক নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। এটি নিয়মিত ব্যবহার করার পরে চুলের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়।
মেয়োনিজ এর সাথে মধু ব্যবহার করতে পারেন। তার জন্য প্রথমে ব্লেন্ডারে আধা কাপ মেয়োনিজ, 2 টেবিল চামচ মধু, এক টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার একসাথে ব্লেন্ড করতে হবে। এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি লাগানোর ফলে আপনার কোকড়ানো চুল সোজা হয়ে যাবে। সেই সাথে চুল সিল্কি ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
বন্ধুরা আশা করি আজকে প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা একটু হলেও জানতে পেরেছেন কোকড়ানো চুল কিভাবে সোজা করবেন এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন সে সম্পর্কে। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এতক্ষণ ধরে কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

